ভোটের আগে ‘ফ্রিবি’ বা বিনামূল্যে উপহারের প্রতিশ্রুতি কি নির্বাচনী দুর্নীতি? সুপ্রিম কোর্টে বড় মোড়!

নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর বিনামূল্যে বিভিন্ন সামগ্রী বা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি অর্থাৎ ‘ফ্রিবি’ সংস্কৃতি নিয়ে ফের উত্তপ্ত জাতীয় রাজনীতি। শুক্রবার এই সংক্রান্ত একটি জনস্বার্থ মামলা (পিআইএল)-এর দ্রুত শুনানির আবেদন জানানো হয় সুপ্রিম কোর্টে। আবেদনকারীর দাবি, এই ধরনের প্রতিশ্রুতি ভোটারদের অযাচিতভাবে প্রভাবিত করে, যা নির্বাচনী প্রক্রিয়ার পবিত্রতা ও সুষ্ঠু প্রতিযোগিতাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।

আবেদনকারী আইনজীবী অশ্বিনী উপাধ্যায় প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি. মোহনের বেঞ্চের কাছে মামলাটি দ্রুত শুনানির আর্জি জানান। তিনি উল্লেখ করেন, ২০২২ সালে এই জনস্বার্থ মামলার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে নোটিশ জারি করা হয়েছিল। গত ৫ই ফেব্রুয়ারি জরুরি শুনানির আবেদন জানালেও, আদালত মার্চ মাসে শুনানির কথা জানিয়েছিল। অশ্বিনী উপাধ্যায় দাবি করেন, বিষয়টি অত্যন্ত জরুরি এবং উভয় পক্ষই একটি কমিটি গঠনের বিষয়ে ইতিবাচক অবস্থানে রয়েছে, যার জন্য এখন কেবল আদালতের অনুমোদনের প্রয়োজন। প্রবীণ আইনজীবী কপিল সিবালও দ্রুত শুনানির দাবিতে সরব হন।

তবে এই বিষয়ে প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, হাতে কাজের চাপ প্রচুর। তিনি বলেন, “বিনামূল্যের সুবিধা নিয়ে আলোচনা করার মতো অবসর পেলে আমরা এই বিষয়টি অবশ্যই শুনব। তবে এই মুহূর্তে বিষয়টি অপেক্ষা করতে পারে।” আদালত এখনই কোনো বিশেষ তড়িঘড়ি না দেখালেও, মামলাটির গুরুত্ব যে অপরিসীম তা অস্বীকার করার উপায় নেই।

২০২২ সালে তৎকালীন প্রধান বিচারপতি এনভি রামানার নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ এই বিষয়টিকে একটি ‘গুরুতর সমস্যা’ হিসেবে চিহ্নিত করেছিল। বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ ছিল, বিনামূল্যে সামগ্রী বিতরণের জন্য প্রয়োজনীয় বাজেট অনেক সময় রাজ্যের প্রকৃত উন্নয়নের বাজেটকেও ছাড়িয়ে যায়। আবেদনকারীর মূল দাবি, নির্বাচনের আগে সরকারি কোষাগারের টাকায় ব্যক্তিগত পণ্য বা পরিষেবা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি ভোটারদের ঘুষ দেওয়ার শামিল। তিনি নির্বাচন কমিশনকে নির্দেশ দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন যাতে ‘নির্বাচনী প্রতীক (সংরক্ষণ ও বরাদ্দ) আদেশ, ১৯৬৮’-এ একটি অতিরিক্ত শর্ত যুক্ত করা হয়। সেই শর্ত অনুযায়ী, যে কোনো রাজনৈতিক দল সরকারি তহবিল থেকে কোনো বিনামূল্যে সামগ্রী বিতরণের প্রতিশ্রুতি দিলে তাদের নির্বাচনী প্রতীক বাজেয়াপ্ত বা দলের নিবন্ধন বাতিল করা যেতে পারে।

আইনজীবীর যুক্তি, এই ধরনের অগণতান্ত্রিক প্রবণতা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ (আইনের দৃষ্টিতে সমতা) সহ বেশ কয়েকটি ধারাকে সরাসরি লঙ্ঘন করে। দেশের গণতন্ত্রের ভিত্তি অটুট রাখতে এবং নির্বাচনে সাম্য বজায় রাখতে এই ‘ফ্রিবি’ সংস্কৃতি নিয়ন্ত্রণ করা এখন সময়ের দাবি। সুপ্রিম কোর্ট কবে এই বিষয়ে চূড়ান্ত রায় দেয় বা কোনো কঠোর নির্দেশিকা জারি করে, এখন সেটাই দেখার অপেক্ষায় দেশবাসী।