ইসরোতে বড় ধাক্কা! মাত্র কয়েক মাসে ইস্তফা ১০০ বিজ্ঞানীর, নেপথ্যে কি আকাশছোঁয়া বেতনের হাতছানি?

ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা (ISRO)-এর অন্দরমহলে এই মুহূর্তে বড়সড় অস্থিরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে খবর, বিগত কয়েক মাসে প্রায় ১০০ জন বিজ্ঞানী ইসরো থেকে স্বেচ্ছায় অবসর গ্রহণ করেছেন। এই বিপুল সংখ্যক বিজ্ঞানীর পদত্যাগ বা স্বেচ্ছায় অবসর নেওয়ার ঘটনা সংস্থাটির প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় নড়েচড়ে বসেছে ইসরো কর্তৃপক্ষ। খবর অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ও জটিল মহাকাশ মিশন যেমন ‘গগনযান’ প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত প্রবীণ বিজ্ঞানীদের ক্ষেত্রে নতুন করে কোনো অবসরের আবেদন গ্রহণ না করার জন্য কড়াকড়ি নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

এই গণপদত্যাগের ঘটনা নিয়ে দেশজুড়ে বিতর্ক দানা বাঁধলে মুখ খুলেছেন কেন্দ্রীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিং। তিনি এই ঘটনাকে নিতান্তই ‘প্রশাসনিক কারণ’ বলে অভিহিত করেছেন। মন্ত্রী বলেন, “যাঁরা পদত্যাগ করেছেন, তাঁরা প্রশাসনিক কারণে এমনটা করেছেন। এটি নিয়ে মহাকাশ গবেষণা সংস্থাকে জড়িয়ে কোনো বিতর্ক বা জল্পনা ছড়ানো উচিত নয়।” তিনি আরও যোগ করেন, ইস্তফা দেওয়ার পাশাপাশি সংস্থায় অনেক নতুন বিজ্ঞানী যোগদানও করছেন, যা একটি স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

কিন্তু কেন হঠাৎ সরকারি সংস্থা ছাড়ছেন এত বিজ্ঞানী? আনুষ্ঠানিকভাবে ইসরো বা পদত্যাগ করা বিজ্ঞানীরা কোনো মন্তব্য না করলেও, এই প্রবণতার পেছনে সুনির্দিষ্ট কিছু কারণ খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে, ভারতের মহাকাশ খাতে বেসরকারি সংস্থার উত্থানই এর প্রধান কারণ। বর্তমানে হায়দরাবাদ, বেঙ্গালুরুসহ বিভিন্ন শহরে স্কাইরুট, ধ্রুভ স্পেস রিসার্চ, বা দিগন্তরার মতো একাধিক শক্তিশালী বেসরকারি স্পেস স্টার্টআপ গড়ে উঠেছে। এই সংস্থাগুলো মহাকাশে স্যাটেলাইট পাঠানো থেকে শুরু করে অত্যন্ত জটিল প্রযুক্তির কাজে সাফল্য দেখাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, তিনটি প্রধান কারণে বিজ্ঞানীরা ইসরো ছেড়ে এই বেসরকারি সংস্থাগুলোতে যোগ দিচ্ছেন। প্রথমত, আকাশছোঁয়া বেতন। বেসরকারি স্টার্টআপগুলো বিজ্ঞানীদের পূর্বের বেতনের তুলনায় দ্বিগুণ বেতন দেওয়ার পাশাপাশি স্টক অপশন এবং বিলাসবহুল সুযোগ-সুবিধা দিচ্ছে। দ্বিতীয়ত, কাজের স্বাধীনতা ও পরিবেশ। সরকারি সংস্থার দীর্ঘমেয়াদী আমলাতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার তুলনায় বেসরকারি সংস্থায় আইডিয়া থেকে এক্সিকিউশন—সবই দ্রুতগতিতে সম্পন্ন হয়। তৃতীয়ত, ক্যারিয়ারের বিকাশ। সরকারি এজেন্সিতে নেতৃত্বের পর্যায়ে পৌঁছাতে যেখানে দীর্ঘ সময় ব্যয় করতে হয়, সেখানে স্টার্টআপগুলোতে অল্প বয়সেই বিজ্ঞানীরা লিডারশিপের ভূমিকা পালন করার সুযোগ পাচ্ছেন।

যদিও বিজ্ঞানীদের এই প্রস্থানকে অনেকেই স্বাভাবিক বলছেন, তবুও প্রশ্ন উঠছে গগনযানের মতো ফ্ল্যাগশিপ মিশনগুলোতে এর কোনো প্রভাব পড়বে কি না। ইসরো কর্তৃপক্ষের কঠোর নীতি এবং বিজ্ঞানীদের এই ‘ব্রেইন ড্রেন’ মহাকাশ গবেষণার ভবিষ্যৎকে কতটা চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে, তা সময়ই বলবে। তবে বর্তমানে বেসরকারি মহাকাশ সংস্থাগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকাটাই ইসরোর জন্য সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।