আদালতের নির্দেশের তোয়াক্কা নেই? বারবার তলব করেও রিপোর্ট জমা দেননি ডিএম, এবার সরাসরি এজলাসে তলব হাইকোর্টের

উত্তর ২৪ পরগনার জেলাশাসকের ভূমিকার বিরুদ্ধে ফের কঠোর অবস্থান নিল কলকাতা হাইকোর্ট। ভিআইপি রোড ও উল্টোডাঙার পাশে বেআইনি নির্মাণ এবং জবরদখল সংক্রান্ত একটি দীর্ঘদিনের মামলায় আদালতের নির্দেশ অমান্য করার অভিযোগে জেলাশাসককে স্বশরীরে আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তীর ডিভিশন বেঞ্চ। আগামী ২৩ জুলাই সকাল সাড়ে ১০টায় তাঁকে সশরীরে হাজিরা দিয়ে যথাযথ রিপোর্ট জমা করতে বলা হয়েছে।
মামলাটির প্রেক্ষাপট ২০২২ সালের। অভিযোগ, রাস্তার দুই পাশে নয়নজুলি ভরাট করে বেআইনিভাবে পার্কিং প্লেস ও বিয়ের বাড়ি তৈরি করা হয়েছে। এই জবরদখল সরিয়ে খাল পুনরুদ্ধারের আর্জি জানিয়ে আদালতে মামলা দায়ের করেন এক ব্যক্তি। সেই সময় তৎকালীন জেলাশাসক জবরদখলের কথা স্বীকারও করেছিলেন। আদালত বারবার পদক্ষেপের রিপোর্ট তলব করলেও, প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। এমনকি ২০২৬ সালেই চারবার (২০ ফেব্রুয়ারি, ১ এপ্রিল, ১১ মে এবং ১৫ জুন) নির্দিষ্ট নির্দেশ দেওয়া সত্ত্বেও কোনো সদুত্তর মেলেনি।
গত ১০ জুলাই মামলার শুনানিতেই আদালত জানিয়ে দিয়েছিল, সঠিক রিপোর্ট না জমা পড়লে জেলাশাসককে আদালতে সশরীরে তলব করা হবে। শুক্রবার আদালতে জেলাশাসকের পক্ষ থেকে ফের দায়সারা একটি রিপোর্ট জমা দেওয়া হয়, যা দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি তপোব্রত চক্রবর্তী। জেলাশাসক ভার্চুয়ালি হাজিরার আবেদন জানালেও আদালত তা খারিজ করে দেয়। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি সওয়াল করেন, “জেলাশাসককে বলুন আসতে। উনি কি নিজেকে ডিভিশন বেঞ্চের উপরে মনে করেন? ডিস্ট্রিক্ট ল অফিসার কেন তাঁর হয়ে ফাইল করছেন?”
আদালত স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছে, তারা আর কোনো কালক্ষেপণ সহ্য করবে না। ভারপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি আরও বলেন, “আমাদের মনে হচ্ছে ইচ্ছাকৃতভাবে আদালতের নির্দেশ অমান্য করা হচ্ছে। আমাদের ধৈর্যের পরীক্ষা নেবেন না।” ২৩ জুলাই জেলাশাসককে হলফনামা ও বিস্তারিত রিপোর্ট নিয়ে এজলাসে হাজির হতে হবে। এই নির্দেশনার ফলে প্রশাসনিক মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে, কারণ আদালতের স্পষ্ট ইঙ্গিত—প্রশাসনিক কর্তাদের অবহেলা আর সহ্য করা হবে না।