শয়তানের চেয়েও নিকৃষ্ট! ৭ বছরের শিশুকে ধর্ষণ-হত্যার মামলায় মৃত্যুদণ্ড বদলে ৫০ বছরের কারাদণ্ড পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের

পাঞ্জাব ও হরিয়ানা হাইকোর্টের সাম্প্রতিক এক গুরুত্বপূর্ণ রায়ে ২০২১ সালের ৭ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণ ও হত্যার মামলায় অভিযুক্তের মৃত্যুদণ্ডকে ৫০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডে রূপান্তরিত করা হয়েছে। বিচারপতি অনুপ চিতকরা এবং বিচারপতি রমেশ চন্দ্র দিমরির সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের ৫৪ পৃষ্ঠার রায়ে অপরাধটিকে অত্যন্ত জঘন্য এবং অপরাধীকে ‘শয়তানের চেয়েও নিকৃষ্ট’ বলে অভিহিত করেছে। তবে একই সঙ্গে আদালত জানিয়েছে, তদন্ত প্রক্রিয়ায় গুরুতর ত্রুটি এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ঘাটতির কারণে মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখা সম্ভব হয়নি।

ঘটনাটি ২০২১ সালের ২৪ মে-র, যখন ৭ বছর বয়সী একটি শিশুকন্যা নিখোঁজ হয়ে যায়। পুলিশের দায়ের করা এফআইআর-এর পরদিন মেয়েটির বাবা প্রতিবেশী আনন্দ সিংয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলে পুলিশ অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করে এবং শিশুর মৃতদেহ উদ্ধার করে। ময়নাতদন্তে ধর্ষণের বিষয়টি প্রমাণিত হয়। ২০২৩ সালের ২৮ জুলাই পালওয়ালের বিশেষ আদালত অভিযুক্তকে মৃত্যুদণ্ড এবং ভুক্তভোগীর পরিবারকে ৩০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণের নির্দেশ দিয়েছিল।

উচ্চ আদালত তদন্তকারী সংস্থার বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছে। রায় পর্যবেক্ষণে উঠে এসেছে যে, পুলিশ দাবি করেছিল অভিযুক্তের দেখানো পথেই মৃতদেহ উদ্ধার হয়েছে, কিন্তু নথিপত্র অনুযায়ী পুলিশ গ্রেপ্তারের আগেই মৃতদেহের অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিল। তদন্তকে ‘অবহেলামূলক’ উল্লেখ করে আদালত জানায়, কোভিড-১৯ এর বিধিনিষেধের কারণে তদন্তকারী সংস্থার ওপর চাপ থাকলেও এই ধরনের গুরুতর মামলায় এমন ত্রুটি গ্রহণযোগ্য নয়। আদালতের মতে, অপরাধের নৃশংসতা এবং তদন্তে ঘাটতির মধ্যে ভারসাম্য বজায় রেখেই এই সাজা কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিচারপতিরা আবেগঘন রায়ে ভুক্তভোগীকে ‘লাডলি’ বলে উল্লেখ করেছেন। আদালত বলেছে, মেয়েটির জন্মদিন আসতে মাত্র ১৭ দিন বাকি ছিল। বাবা-মায়ের দেওয়া সুরক্ষা কবচও তাকে বাঁচাতে পারেনি, কারণ ঘাতক ছিল অমানুষ। ভবিষ্যতে ওই ব্যক্তি যেন কোনোভাবেই অন্য কোনো মেয়ের জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, তা নিশ্চিত করতেই আদালত তাকে ৫০ বছর জেল খাটার কঠোর নির্দেশ দিয়েছে।

এই রায়ে আদালত তাকে হত্যা মামলায় যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছে, যার মেয়াদ অন্তত ৫০ বছর পর্যন্ত হবে এবং এই সময়ে কোনো মুক্তি মিলবে না। হত্যার দায়ে তাকে ৫০ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। পাশাপাশি পকসো (POCSO) আইনের অধীনে তাকে আরও ২৩ বছরের কারাদণ্ড এবং ২৩ লক্ষ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। আদালত নির্দেশ দিয়েছে যে, এই মোট ৭৩ লক্ষ টাকা জরিমানা ভুক্তভোগীর পরিবারকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে প্রদান করতে হবে। বিচার ব্যবস্থার এই রায় একদিকে যেমন অপরাধীর প্রতি কঠোর অবস্থান স্পষ্ট করেছে, অন্যদিকে তদন্তকারী সংস্থাগুলোর গাফিলতির দিকেও আঙুল তুলেছে।