বিমানবন্দর চত্বরে নমাজ পড়া ঘিরে তীব্র বিতর্ক! বিশাল পুলিশ বাহিনী মোতায়েন, রাজনৈতিক তরজায় সরগরম রাজ্য

কলকাতা বিমানবন্দরের পরিকাঠামোগত সম্প্রসারণের লক্ষ্যে বিমানবন্দর চত্বরে অবস্থিত বাঁকড়া মসজিদ স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে প্রশাসন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিমানবন্দরের সংলগ্ন এলাকা। সম্প্রসারণের প্রয়োজনে প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে বর্তমানে এই মসজিদে গিয়ে নমাজ পড়া আপাতত বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এই নির্দেশকে কেন্দ্র করেই শুরু হয়েছে চরম রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক।
এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আজ সকাল থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। প্রাক্তন তৃণমূল বিধায়ক সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী এই ঘটনার তীব্র বিরোধিতা করে রাস্তায় বসে নমাজ পড়ার ডাক দেন। যার ফলে পরিস্থিতি সামাল দিতে সকাল থেকেই বিমানবন্দরের ৭ নম্বর গেট চত্বরে ১৬৩ ধারা জারি করেছে পুলিশ। এলাকায় মোতায়েন করা হয়েছে বিশাল পুলিশ বাহিনী। দফায় দফায় চলছে মাইকিং। পুলিশের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বিমানবন্দর সংলগ্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় কোনো ধরনের জমায়েত বা বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।
উদ্ভূত পরিস্থিতিতে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে রাস্তায় নমাজ পড়ার জন্য সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী ও তাঁর অনুগামীদের অনুমতি চাওয়া হলেও তা সরাসরি খারিজ করে দেওয়া হয়েছে। বিমানবন্দর এলাকায় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও পুলিশের কড়া অবস্থানের কারণে শেষপর্যন্ত বাঁকড়া মসজিদ কমিটি নিজের নিজের এলাকায় শান্তিপূর্ণভাবে নমাজ পড়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। যদিও এই পিছু হটার পরেও সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, “আমরা কাল যাব, রাস্তায় নমাজ পড়ব।”
এই ঘটনাকে ঘিরে রাজনৈতিক চাপানউতোর তুঙ্গে। দক্ষিণ দমদমের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ সিকদার এই ইস্যু নিয়ে সিদ্দিকুল্লা চৌধুরীকে তীব্র আক্রমণ করেছেন। তিনি বলেন, “সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী আসলে একজন ধর্ম ব্যবসায়ী। তিনি ধর্মের নামে একটি নোংরা খেলায় নেমেছেন।” তাঁর দাবি, উন্নয়নের কাজকে বাধাগ্রস্ত করতেই এই ধরনের প্ররোচনামূলক মন্তব্য করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, বিমানবন্দর চত্বরে নিরাপত্তার খাতিরে এবং পরিকাঠামোর প্রয়োজনে অতীতেও বিভিন্ন কাঠামো স্থানান্তর করা হয়েছে। বর্তমানে এই মসজিদের ক্ষেত্রেও সেই একই নিয়ম অনুসরণ করা হচ্ছে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তবে রাজনৈতিক দলগুলোর এই মন্তব্য ও পালটা মন্তব্যের লড়াইয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, আগামী দিনে এই পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয় এবং প্রশাসন কীভাবে পুরো বিষয়টি সামাল দেয়।