অযোধ্যা রাম মন্দির নিয়ে বিস্ফোরক সঞ্জয় রাউত! আরএসএস প্রধান মোহন ভাগবতকে দিলেন সরাসরি চ্যালেঞ্জ?

অযোধ্যার রাম মন্দিরের দান ও অনুদানের অর্থ তছরুপের অভিযোগকে কেন্দ্র করে মহারাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়ছে। এই ইস্যুকে হাতিয়ার করেই এবার আসরে নেমেছে শিবসেনা (ইউবিটি)। অযোধ্যার পবিত্র মন্দির চত্বরে চুরির ঘটনা এবং আর্থিক অনিয়মের প্রতিবাদে আগামী ১৮ই জুলাই নাগপুরের রাম নগরের রাম মন্দিরে একটি বিশেষ ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’-এর ডাক দিয়েছে উদ্ধব ঠাকরে গোষ্ঠী। এই কর্মসূচিকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে শুরু হয়েছে ব্যাপক চাঞ্চল্য।
ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে শিবসেনার প্রবীণ নেতা তথা রাজ্যসভার সাংসদ সঞ্জয় রাউত সরাসরি রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের (আরএসএস) প্রধান মোহন ভাগবতকে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন। শুক্রবার, ১৭ই জুলাই এক চিঠির মাধ্যমে রাউত আরএসএস প্রধানকে এই আহ্বান জানান। চিঠিতে তিনি স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, অযোধ্যা রাম মন্দিরের জন্য সংগৃহীত অনুদান নিয়ে যে কথিত দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে, তা দেশের কোটি কোটি হিন্দু ভক্তের বিশ্বাস ও আস্থায় গভীর আঘাত হেনেছে।
সঞ্জয় রাউত চিঠিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে লেখেন, “আরএসএস অযোধ্যা রাম মন্দির অনুদান আত্মসাতের ঘটনায় প্রাথমিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করলেও, এই চুরির সঙ্গে যুক্ত মূল অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে এখনো কোনো কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এটি অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক।” তিনি আরও বলেন, ভগবান রামের পবিত্রতা রক্ষা এবং এই আর্থিক কেলেঙ্কারি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্যই শিবসেনা রাজ্যব্যাপী ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’ পরিচালনা করছে। এই প্রচার অভিযানের দ্বিতীয় পর্ব নাগপুরে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। রাউত আশা প্রকাশ করেন যে, মোহন ভাগবত নিজে উপস্থিত থেকে ভক্তদের আশীর্বাদ করবেন। তবে কোনো কারণে উপস্থিত থাকতে না পারলে তিনি যেন নিজের কোনো প্রতিনিধিকে এই অনুষ্ঠানে পাঠান, সেই অনুরোধও রেখেছেন সাংসদ।
উল্লেখ্য, মোহন ভাগবতকে আমন্ত্রণ জানানোর ঠিক আগেই, গত ১৫ই জুলাই মহারাষ্ট্রের মুখ্যমন্ত্রী দেবেন্দ্র ফড়নবীশকেও একই ধরণের চিঠি পাঠিয়েছিলেন সঞ্জয় রাউত। ফড়নবীশকে ভগবান রামের একনিষ্ঠ ভক্ত হিসেবে অভিহিত করে তাঁকে এই আন্দোলনে অংশ নেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। রাজনীতিকদের মতে, শিবসেনার এই কৌশলটি অত্যন্ত সুদূরপ্রসারী। অযোধ্যা রাম মন্দিরের মতো আবেগী বিষয়কে সামনে রেখে শিবসেনা একদিকে যেমন হিন্দু সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করার ডাক দিচ্ছে, অন্যদিকে শাসক দলকে এই ইস্যুতে চাপে ফেলার পরিকল্পনা করছে।
১৮ই জুলাই বিকেল ৪:৩০ মিনিটে নাগপুরের রামনগরের রাম মন্দিরে আয়োজিত এই কর্মসূচিকে ঘিরে প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক স্তরে প্রস্তুতি তুঙ্গে। একদিকে রাম মন্দিরের পবিত্রতা রক্ষা এবং অন্যদিকে আর্থিক দুর্নীতির বিরুদ্ধে জনমত গঠন—এই দুই মেরুকে সামনে রেখে শিবসেনা কতটা সফল হয়, তা দেখার অপেক্ষায় রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা। এখন দেখার বিষয়, আরএসএস প্রধান বা মুখ্যমন্ত্রী এই আমন্ত্রণে সাড়া দিয়ে ‘রাম রক্ষা আন্দোলন’-এ আদৌ যোগ দেন কি না।