ঘাঘরা নদীতে হাত ধুতে গিয়েই বিপদ! কুমিরের চোয়ালে প্রাণ গেল ১২ বছরের কিশোরের, শোকের ছায়া বাহরাইচে

উত্তরপ্রদেশের বাহরাইচ জেলায় এক মর্মান্তিক ও লোমহর্ষক ঘটনার সাক্ষী রইল স্থানীয় মানুষ। ঘাঘরা নদীতে হাত-পা ধুতে নেমে ১২ বছরের এক কিশোরের করুণ মৃত্যু হলো কুমিরের আক্রমণে। মৃত কিশোরের নাম সুনীল সিং, সে বাহরাইচের বাউন্ডি থানার টিকুরি গ্রামের বাসিন্দা। এই ঘটনাটি শুক্রবার সকালে ঘটায় গোটা এলাকায় তীব্র চাঞ্চল্য ও শোকের পরিবেশ তৈরি হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, শুক্রবার সকালে সুনীল তার পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে মাঠে ধানের চারা রোপণের কাজ করছিল। কাজ শেষে ক্লান্ত শরীরে ঘাঘরা নদীর ঘাটে সে হাত-পা ধুতে গিয়েছিল। ঠিক সেই মুহূর্তেই নদী থেকে আচমকা উঠে আসে একটি বিশাল কুমির। চোখের পলকে কিশোরটিকে টেনে গভীর জলের মধ্যে নিয়ে যায় প্রাণীটি। মুহূর্তের মধ্যে ঘটে যাওয়া এই নৃশংস দৃশ্য দেখে পরিবারের সদস্যরা এবং আশেপাশের গ্রামবাসীরা ভয়ে চিৎকার করে ওঠেন।

ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই গ্রামজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। পরিবারের সদস্য ও গ্রামবাসীরা দ্রুত নদী তীরে জড়ো হয়ে কিশোরটিকে উদ্ধারের কাজে নামেন। শুরু হয় দীর্ঘ তল্লাশি। কয়েক ঘণ্টা চেষ্টার পর নদী থেকে সুনীলের নিথর দেহ উদ্ধার করা হয়। কিশোরের অকাল মৃত্যুতে পরিবারের সদস্যদের কান্নায় আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। এই ঘটনায় গোটা টিকুরি গ্রাম শোকস্তব্ধ।

উল্লেখ্য, বাহরাইচ জেলার ঘাঘরা নদী এবং এর সংলগ্ন জলাভূমি এলাকাটি দীর্ঘকাল ধরেই কুমিরের উপদ্রবের জন্য পরিচিত। বিশেষ করে কাতারনিয়াঘাট বন্যপ্রাণ অভয়ারণ্যের আশপাশের গ্রামগুলিতে বন্যপ্রাণী ও মানুষের সংঘাত নতুন কিছু নয়। অতীতেও এই নদীতে একাধিকবার কুমির হামলার ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, বনদফতর মাঝে-মধ্যে সচেতনতা প্রচার চালালেও, নদী বা খালের ধারে কৃষিকাজ করতে গিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতিনিয়ত জীবনের ঝুঁকি নিতে হয়।

প্রত্যক্ষদর্শীদের বয়ান অনুযায়ী, সুনীল ছিল অত্যন্ত হাসিখুশি ও প্রাণবন্ত। পরিবারের আর্থিক প্রয়োজনে সে ছোটবেলা থেকেই মাঠে কাজ করতে যেত। নদীতে হাত-পা ধুয়ে ঘরে ফিরে আসার কথা ছিল তার, কিন্তু সেই ফেরা আর হলো না। স্থানীয় কৃষকরা দাবি করেছেন, এলাকায় কুমিরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় নদী বা খাল সংলগ্ন এলাকায় কৃষিকাজ করা এখন অত্যন্ত বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বনদফতরের পক্ষ থেকে আক্রান্তের পরিবারকে যথাযথ সাহায্যের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকাবাসীদের নদীর ধারে সতর্কভাবে চলাফেরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তবে এই ঘটনায় মানুষ-বন্যপ্রাণীর সংঘাত নিয়ে ফের নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিল।