মন্দিরে যাওয়ার অছিলায় ডেকে স্বামীকে নৃশংস হত্যা, লাইভ লোকেশন শেয়ার করে নিখুঁত ছক কষল স্ত্রী!

অন্ধ্রপ্রদেশের চিত্তুর জেলায় এক ভয়াবহ নৃশংসতায় স্তব্ধ প্রশাসন ও স্থানীয় এলাকাবাসী। মন্দিরে যাওয়ার অছিলায় স্বামীকে নির্জন পাহাড়ি রাস্তায় ডেকে নিয়ে গিয়ে খুনের অভিযোগে গ্রেফতার হলেন ১৯ বছরের এক তরুণী, হাসিনি। কেবল তাই নয়, পুলিশের দাবি, খুনের পুরো পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত করতে ওই তরুণী তাঁর প্রেমিককে পদে পদে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠাচ্ছিলেন। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

নিহত যুবকের নাম রমেশ (২৩)। তিনি তামিলনাড়ুর কৃষ্ণগিরি জেলার সুলাগিরির বাসিন্দা ছিলেন এবং হোসুরের একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। দুই বছর আগে হাসিনির সঙ্গে তাঁর বিয়ে হয় এবং তাঁদের একটি শিশুকন্যাও রয়েছে। তদন্তে পুলিশ জানতে পেরেছে, বিয়ের পরও হাসিনির সঙ্গে তাঁর শৈশবের বন্ধু যুগন্ধর (২০)-এর দীর্ঘদিনের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। রমেশকে জীবন থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই খুনের ছক কষেন তাঁরা।

পুলিশের বয়ান অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার অমাবস্যা উপলক্ষে গুদুপল্লে মণ্ডলের মাল্লাপ্পা কোন্ডা পাহাড়ের ওপর অবস্থিত শ্রী মল্লেশ্বর স্বামী মন্দিরে যাওয়ার জন্য রমেশকে রাজি করান হাসিনি। স্বামী ও শিশুকন্যাকে নিয়ে মোটরবাইকে মন্দিরের দিকে যাওয়ার সময় হাসিনি ক্রমাগত নিজের মোবাইল থেকে যুগন্ধরকে ‘লাইভ লোকেশন’ পাঠাতে থাকেন। পাহাড়ি রাস্তার এক নির্জন বাঁকে পৌঁছাতেই হাসিনি ইচ্ছাকৃতভাবে নিজের হাতব্যাগটি মোটরবাইক থেকে ফেলে দেন। ব্যাগ তোলার জন্য রমেশ যেই বাইক থামিয়েছেন, অমনি ওৎ পেতে থাকা যুগন্ধর ও তাঁর সহযোগীরা রমেশের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। প্রায় ১০০ মিটার ধাওয়া করে রমেশকে একটি জঙ্গলে নিয়ে গিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে খুন করা হয়। মর্মান্তিক বিষয় হলো, এই গোটা ঘটনার সময় দম্পতির শিশুকন্যাটিও ঘটনাস্থলের আশেপাশেই ছিল।

সিসিটিভি ফুটেজ ও মোবাইল ফোনের প্রযুক্তিগত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনার তদন্তে নামে। মন্দিরে যাওয়ার পথে রমেশের সঙ্গে হাসিনিকে দেখা গেলেও, পরে ওই তরুণীকে দুই যুবকের সঙ্গে একই বাইকে এলাকা ছাড়তে দেখা যায়। এই সূত্র ধরেই পুলিশ হাসিনি, তাঁর প্রেমিক যুগন্ধর ও আরও দুই সহযোগীকে গ্রেফতার করে। স্থানীয়দের দাবি, বিয়ের সময় হাসিনি নাবালিকা ছিলেন, যা এখন পুলিশ খতিয়ে দেখছে। যদি এই তথ্য সত্য প্রমাণিত হয়, তবে বাল্যবিবাহ বিরোধী আইনেও তরুণীর বিরুদ্ধে পৃথক মামলা রুজু হতে পারে। এই ঘটনা সমাজ ও সম্পর্কের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন তৈরি করেছে।