ফের আতঙ্ক! করোনার থাবায় ৪ জনের মৃত্যু, অন্ধ্রপ্রদেশে কি ফিরছে ২০২০-র দুঃস্বপ্ন?

ফের আতঙ্ক ছড়ালো করোনা। কোভিড-১৯ সংক্রমণের জেরে প্রাণ হারিয়েছেন চারজন, আক্রান্ত আরও বেশ কয়েকজন—এমনই উদ্বেগজনক খবর উঠে এসেছে অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে। রাজ্যের স্বাস্থ্য দফতরের সচিব জি বীরপান্ডিয়ান জানিয়েছেন, এখনও পর্যন্ত রাজ্যে ১২ জনের করোনা সংক্রমণের খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে চারজনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য সচিবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মৃতদের মধ্যে তিনজন ওয়াইএসআর কড়াপা জেলার এবং একজন কাকিনাড়া জেলার বাসিন্দা ছিলেন। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, মৃতরা সকলেই আগে থেকেই গুরুতর শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। ভাইরাসের জিনগত বিন্যাস বা ‘জেনেটিক সিকোয়েন্স’ শনাক্ত করতে পাঁচটি নমুনা ইতিমধ্যে পুনের ‘ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অফ ভাইরোলজি’-তে পাঠানো হয়েছে।

আক্রান্তদের জেলায় বিন্যাস করলে দেখা যায়, ওয়াইএসআর কড়াপায় ৮ জন, গুন্টুরে ২ জন, বিশাখাপত্তনমে ১ জন এবং কাকিনাড়ায় ১ জন কোভিডে আক্রান্ত হয়েছেন। আক্রান্তদের মধ্যে দু’জন আগে থেকেই সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে ছিলেন বলে জানা গেছে। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই, বরং সতর্কতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করা জরুরি। সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে যোগাযোগ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় রাজ্য প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। জেলা চিকিৎসা ও স্বাস্থ্য আধিকারিক (DMHO), সরকারি জেনারেল হাসপাতাল এবং টিচিং হাসপাতালের সুপারিনটেনডেন্টদের জন্য কঠোর জরুরি নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে। নমুনা সংগ্রহ ও পরীক্ষার ওপর জোর দেওয়ার পাশাপাশি আরটি-পিসিআর কিট, ভিটিএম কিট, পিপিই কিট, মাস্ক, স্যানিটাইজার, অক্সিজেন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধের মজুত পর্যাপ্ত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য দফতর দাবি করেছে, প্রতিটি হাসপাতালে কোভিড-১৯ ওয়ার্ড প্রস্তুত রাখা হয়েছে। কিন্তু বাস্তবের চিত্রটি বেশ উদ্বেগজনক। হাসপাতালগুলিতে ল্যাবরেটরিতে পরীক্ষার জন্য অত্যাবশ্যক ‘ভিটিএম কিট’-এর অভাব দেখা দিয়েছে। অনেক স্থানে পিপিই কিটের ঘাটতির অভিযোগও সামনে আসছে। অথচ ২০২০ সালে কোভিডের প্রকোপকালে রাজ্যে ৭.৫ কোটি পিপিই কিট কেনা হয়েছিল, যার মেয়াদ ২০২৫ সাল পর্যন্ত ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে ৪৫ লক্ষ পিপিই কিট নষ্ট হয়ে গেছে। কেন এমনটা ঘটল এবং কার গাফিলতিতে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ নষ্ট হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। এদিকে, বিভিন্ন হাসপাতালের অক্সিজেন প্ল্যান্টগুলি বর্তমানে অকেজো অবস্থায় পড়ে আছে, যা বর্তমান পরিস্থিতিতে বড় ঝুঁকির কারণ হতে পারে। প্রশাসনের দাবি, দ্রুত প্রয়োজনীয় কিট ও ওষুধের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।