“মাত্র ৫ টাকা ভাড়া”-ভারতের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের যাত্রা শুরু, জানুন ৮টি চমকপ্রদ ফিচার

পরিবেশবান্ধব গণপরিবহনের লক্ষ্যে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিল ভারত। শুক্রবার ১৭ জুলাই হরিয়ানার জিন্দ স্টেশন থেকে দেশের প্রথম হাইড্রোজেন ট্রেনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। আধুনিক প্রযুক্তি ও পরিবেশ রক্ষার ভারসাম্য মেনে তৈরি এই ট্রেনটি কেবল দূষণমুক্তই নয়, ডিজেল বা বৈদ্যুতিক ট্রেনের তুলনায় অনেক বেশি সাশ্রয়ী ও দ্রুতগতিসম্পন্ন।

একনজরে বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

  • রুট: হরিয়ানার জিন্দ এবং সোনিপাতের মধ্যে ৮৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রুটে চলাচল করবে এই ট্রেন। প্রতিদিন দু’টি রাউন্ড ট্রিপে মোট ৩৫৬ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করবে।

  • গতি: হাইড্রোজেন ট্রেনের গড় গতিবেগ ঘণ্টায় ৭৫ কিমি। পরীক্ষামূলক চালনায় এটি ১২০ কিমি গতি ছুঁয়ে ফেলেছে। যেখানে পুরোনো ডিজেল ট্রেনে ৯০ কিমি যেতে ২ ঘণ্টা লাগত, সেখানে এই ট্রেন সেই পথ পাড়ি দেবে মাত্র ১ ঘণ্টায়।

  • ধারণক্ষমতা: মোট ১০টি কোচের এই ট্রেনে ৬৮২টি আসন রয়েছে এবং প্রায় ২,৬০০ জন যাত্রী অনায়াসে যাতায়াত করতে পারবেন।

  • সাশ্রয়ী ভাড়া: সাধারণ প্ল্যাটফর্ম টিকিট বা মেট্রোর ভাড়ার চেয়েও কম, মাত্র ৫ থেকে ২৫ টাকার মধ্যেই সীমাবদ্ধ এই ট্রেনের ভাড়া।

কীভাবে কাজ করে এই ট্রেন? হাইড্রোজেন ও বাতাসের অক্সিজেনের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়। এই বিদ্যুৎই ট্রেনকে চালিত করে। ধোঁয়া বা কার্বন ডাইঅক্সাইডের বদলে এই ট্রেন থেকে নির্গত হয় কেবল জলীয় বাষ্প। ট্রেনের দু’প্রান্তে থাকা পাওয়ার কারে রাখা হাইড্রোজেন সিলিন্ডার ও ফুয়েল সেল থেকে শক্তি উৎপন্ন হয়, যা ডিজেল ট্রেনের তুলনায় ৬০ শতাংশ কম শব্দ তৈরি করে।

নিরাপত্তা ও পরিকাঠামো: নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনও আপস করেনি রেলওয়ে। এতে হাইড্রোজেন লিক ডিটেক্টর, ফায়ার ডিটেক্টর এবং অটো-শাটডাউন সিস্টেমের মতো অত্যাধুনিক সুরক্ষা ব্যবস্থা রয়েছে। এছাড়া জিন্দে তৈরি করা হয়েছে একটি বিশেষ হাইড্রোজেন রিফুয়েলিং প্ল্যান্ট, যা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় এবং অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থায় সুসজ্জিত।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: প্রায় ১১২ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন এই পাইলট প্রকল্প ভারতের পরিবেশ দূষণ কমানোর লক্ষ্যকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেল। রেলের ‘হাইড্রোজেন ফর হেরিটেজ’ উদ্যোগের অধীনে ভবিষ্যতে আরও ৩৫টি হাইড্রোজেন ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে। তেল ও ডিজেলের ওপর আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে দেশের রেল পরিকাঠামোকে সম্পূর্ণ দূষণমুক্ত করার দিকে এটিই প্রথম বড় পদক্ষেপ।