ট্রায়ালের ঠিক আগেই রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হাওড়ার রাইফেল শুটার! দময়ন্তীর সন্ধানে তোলপাড় পুলিশ

হাওড়ার ক্রীড়ামহলে নেমে এসেছে গভীর উদ্বেগ। জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়া ১৫ বছর বয়সী প্রতিভাবান রাইফেল শুটার দময়ন্তী সেন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছেন। মধ্য হাওড়ার ৩০/২ উমাচরন ভট্টাচার্য লেনের বাসিন্দা এই কিশোরী শ্যুটারের আচমকা অন্তর্ধান ঘিরে দানা বেঁধেছে রহস্য। দময়ন্তী গত বৃহস্পতিবার থেকে নিখোঁজ, যা নিয়ে আতঙ্কিত তাঁর পরিবার ও সতীর্থরা।

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, দময়ন্তী বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ির কাছেই একটি দোকানে কেনাকাটা করতে বেরিয়েছিল। এরপর সময় গড়িয়ে গেলেও সে আর বাড়ি ফেরেনি। প্রথম দিকে পরিবারের সদস্যরা ভেবেছিলেন হয়তো আশেপাশেই কোথাও গিয়েছে, কিন্তু দীর্ঘক্ষণ কেটে যাওয়ার পরেও তার কোনো সন্ধান না মেলায় শুরু হয় খোঁজাখুঁজি। আত্মীয়-স্বজন থেকে শুরু করে সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও দময়ন্তীর কোনো খোঁজ না পাওয়ায় পরিবারের উদ্বেগ চরম আকার ধারণ করে।

দময়ন্তীর বাবা ধ্রুবজ্যোতি সেন জানিয়েছেন, তাঁর মেয়ে অত্যন্ত মেধাবী এবং পরিশ্রমী। জাতীয় দলে ট্রায়ালের সুযোগ পাওয়ার পর থেকে সে নিজেকে আরও ভালো করে প্রস্তুত করছিল। প্রতিদিন নিয়ম করে তার অনুশীলনও চলত। এমনকি নিখোঁজ হওয়ার আগের রাতেও সে স্বাভাবিক ছিল। ধ্রুবজ্যোতি বাবুর কথায়, “বুধবার রাতে আমার মেয়ে ভালোভাবেই শুতে গিয়েছিল। দময়ন্তীর মোবাইল ফোনটিও বাড়িতেই পড়ে আছে। আমাদের পারিবারিক জীবনে তেমন কোনো অশান্তি ছিল না। তাহলে কেন সে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিল বা কোনো অঘটন ঘটল কি না, তা আমাদের ভাবনার বাইরে।”

তদন্তে নেমে হাওড়া থানার পুলিশ রেলস্টেশনের সিসিটিভি ফুটেজ খতিয়ে দেখেছে। সেখানে তাকে শেষবারের মতো দেখা গিয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর। এই সিসিটিভি ফুটেজটিই এখন তদন্তের প্রধান হাতিয়ার। পরিবারের তরফে সোশ্যাল মিডিয়ায় দময়ন্তীর নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষ তাকে চিনতে পারলে দ্রুত পুলিশকে জানাতে পারেন।

ক্রীড়ামহলে দময়ন্তীর এমন অন্তর্ধান সবাইকে স্তব্ধ করে দিয়েছে। সতীর্থরা জানিয়েছেন, দময়ন্তী অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ। জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়াটা ছিল তার জীবনের অন্যতম লক্ষ্য। সেই লক্ষ্য পূরণ হওয়ার ঠিক আগের মুহূর্তে এমন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই স্বাভাবিক নয় বলে মনে করছেন তারা।

পুলিশ এই ঘটনাটিকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছে। ব্যক্তিগত কোনো টানাপোড়েন নাকি অন্য কোনো কারণ—সব দিকই খতিয়ে দেখা হচ্ছে। দময়ন্তীর মোবাইল ফোনটি পুলিশি হেফাজতে নেওয়া হয়েছে এবং কল লিস্ট বা অন্য কোনো তথ্য সেখান থেকে পাওয়া যায় কি না, তাও যাচাই করা হচ্ছে। দময়ন্তীর নিখোঁজ হওয়ার পর থেকে তার বাবা-মা এবং পরিবারের লোকজন ভেঙে পড়েছেন। দ্রুত তাকে খুঁজে বের করার জন্য পুলিশি তৎপরতার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী। হাওড়া শহরের মতো জায়গায় দিনের আলোয় একজন কিশোরীর এভাবে নিখোঁজ হয়ে যাওয়া নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে, খুব দ্রুতই তাকে খুঁজে বের করা সম্ভব হবে।