“মোমোর সঙ্গে দেওয়া চাটনিই বিষ!”-অস্বাস্থ্যকর খাবার নিয়ে কড়া বার্তা প্রশাসনের

বাঙালির অত্যন্ত প্রিয় খাবার মোমো। বিকেলে আড্ডার সঙ্গী হিসেবে মোমোর জুড়ি মেলা ভার। কিন্তু সেই প্রিয় খাবারই যে আপনার শরীরের জন্য বিষ হয়ে উঠতে পারে, তা চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল কানপুর প্রশাসনের সাম্প্রতিক অভিযান। শহরের একাধিক মোমোর দোকানে হানা দিয়ে স্বাস্থ্যবিধির চরম অবমাননা এবং অস্বাস্থ্যকর চাটনি দেখে কার্যত হতবাক ফুড সেফটি অ্যান্ড ড্রাগ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন।

অভিযানে বেরিয়ে যা দেখল প্রশাসন জেলাশাসক জিতেন্দ্র প্রতাপ সিংয়ের নির্দেশে কানপুরের রাওয়াতপুর, সকেত নগর এবং মাসওয়ানপুরের বিভিন্ন মোমোর দোকানে হঠাৎ হানা দেয় খাদ্য সুরক্ষা দফতর। পরিদর্শনের সময় আকাশ মোমো, শ্রী বালাজি মোমোসহ একাধিক দোকানে খাবারের মান নিয়ে ভয়াবহ তথ্য সামনে আসে।

চরম অস্বাস্থ্যকর চাটনি অভিযানের সময় দেখা যায়, মোমোর সঙ্গে পরিবেশন করা চাটনি রাখা হয়েছে অত্যন্ত নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। চিকিৎসকদের মতে, এই চাটনি খেলে যেকোনো সময় ফুড পয়জনিং থেকে শুরু করে শরীরের গুরুতর ক্ষতি হতে পারে। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে প্রায় ১১৫ কেজি চাটনি নষ্ট করে দেয়। পাশাপাশি মোমো এবং চাটনির নমুনা ল্যাবে পাঠানো হয়েছে পরীক্ষার জন্য।

নেই কোনো বৈধ রেজিস্ট্রেশন তদন্তে আরও বেরিয়ে এসেছে, রাওয়াতপুরের ‘শ্রী বালাজি মোমো’ কোনো রকম ফুড রেজিস্ট্রেশন ছাড়াই তাদের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছিল। দোকানগুলোতে খাবার রাখার ব্যবস্থা ছিল শোচনীয়। শুধু দোকান নয়, যেসব গাড়ি বা স্টলে করে মোমো বিক্রি করা হচ্ছিল, তাদের বিরুদ্ধেও কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

প্রশাসনের কড়া হুঁশিয়ারি এ বিষয়ে জেলাশাসক জিতেন্দ্র প্রতাপ সিং স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দিয়েছেন, “মানুষের স্বাস্থ্যের সঙ্গে কোনো ধরনের আপস করা হবে না। এই ধরণের গাফিলতি কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।” খাবারের গুণগত মান এবং পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করাই এখন প্রশাসনের প্রথম অগ্রাধিকার।

এই ঘটনার পর থেকেই সাধারণ মানুষের মনে মোমোর বিশুদ্ধতা নিয়ে বড় প্রশ্ন জেগেছে। আপনি যখন বাইরের দোকানে মোমো খান, তখন কি একবারও ভেবে দেখেন সেই চাটনি বা মাংস কতটা স্বাস্থ্যসম্মত? প্রশাসনের এই অভিযান কি আদৌ কোনো দীর্ঘস্থায়ী পরিবর্তন আনতে পারবে, নাকি কিছুদিন পরেই আবার পুরনো ছবি ফিরে আসবে? সেই উত্তর সময়ই দেবে।