‘আগামী সপ্তাহে আরও খারাপ পরিস্থিতি’, ইরানকে ট্রাম্পের চরম হুঁশিয়ারি; বন্ধ হতে চলেছে হরমুজ?

মধ্য-এশিয়ায় যুদ্ধ পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর নতুন করে বিধ্বংসী বিমান হামলা চালিয়েছে এবং দেশটিতে পুনরায় কঠোর নৌ-অবরোধ আরোপ করেছে। এই হামলার জেরে ইরানের কেশম দ্বীপ, বন্দর আব্বাস, চাবাহার ও খোররামাবাদসহ একাধিক স্থানে শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। ইরানের মেহর নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, মার্কিন হামলায় শহিদ বাঘাই হাসপাতালের ক্যান্সার বিভাগ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, ফলে রোগীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। ইরান জানিয়েছে, এই হামলায় অন্তত ৩৫ জন নিহত এবং তিন শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। ধ্বংস হয়েছে সেনাবাহিনীর ব্যারাকও।

ইরানও চুপ করে বসে নেই। তেহরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় করে পাল্টা আঘাত হেনেছে দেশটি। আইআরজিসি (IRGC)-র দাবি, তাদের নতুন আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে আন্দিমেস্ক শহরের আকাশে মার্কিন ‘এমকিউ-৯’ মডেলের একটি অত্যাধুনিক ড্রোন সফলভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, হরমুজ প্রণালী দিয়ে কোনো জাহাজ যাতে অবরোধ ভেঙে ঢুকতে না পারে, সেজন্য মার্কিন বিমানবাহিনীর একটি জাহাজ ‘এম/টি বেলমা’-র ধোঁয়া নির্গমন নলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। তেহরানের হুঁশিয়ারি, মার্কিন আগ্রাসন বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত বিশ্বজ্বালানি সরবরাহের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালী বন্ধ থাকবে।

উত্তেজনার মধ্যেই মার্কিন বিদেশ দপ্তর সৌদি আরবের কাছে ১.৯৬ বিলিয়ন ডলার এবং কুয়েতের কাছে ৪৮৪ মিলিয়ন ডলারের বিশাল অস্ত্র প্যাকেজ বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে। এই অস্থির পরিস্থিতির মাঝেই প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন করে হামলার ইঙ্গিত দিয়ে ফক্স নিউজকে বলেছেন, “তেহরান যদি আলোচনার টেবিলে না ফেরে, তবে তাদের বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও সেতুগুলোতে বড় ধরনের হামলা চালানো হবে। আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি অত্যন্ত খারাপ হতে যাচ্ছে।”

তবে পর্দার আড়ালে আলোচনাও চলছে। ইরানের শীর্ষ আলোচক মহম্মদ বাকের গালিবফ জানিয়েছেন, সমঝোতার শর্ত ঠিকঠাক কার্যকর না হলে তা মানার কোনো বাধ্যবাধকতা তেহরানের নেই। বর্তমানে হরমুজ প্রণালী দিয়ে নৌ-চলাচল সীমিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ইরান অভিযোগ করেছে, মার্কিন এই নতুন অবরোধ গত মাসে অর্জিত অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তি বা ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা’-কে নস্যাৎ করে দিয়েছে। সব মিলিয়ে পারস্য উপসাগরের পরিস্থিতি এখন বারুদের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।