মোদী সরকারের বিদায়ঘণ্টা? দেশজুড়ে ‘অল-আউট’ আন্দোলনের ডাক দিয়ে হুঁশিয়ারি সিপিআই(এম)-এর

দেশে স্বচ্ছ ও অবাধ নির্বাচন নিশ্চিত করতে এবং বিজেপি সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে এক বৃহত্তর আন্দোলনের রূপরেখা তৈরি করল সিপিআই(এম)। সম্প্রতি দিল্লিতে সমাপ্ত হওয়া দলের তিন দিনের কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈঠক শেষে সাংবাদিক সম্মেলনে দলের সাধারণ সম্পাদক এম এ বেবি স্পষ্ট করেছেন যে, নির্বাচনী সংস্কারের দাবিতে বামেরা দেশজুড়ে জোরদার প্রচারে নামছে। এই বৃহত্তর আন্দোলনের পথ প্রশস্ত করতে তারা দেশের অন্যান্য বিরোধী দলগুলির সঙ্গেও সমন্বয় সাধনের উদ্যোগ নিচ্ছে।

কেন্দ্রে বিজেপি সরকারের শাসনে একের পর এক নির্বাচনে অস্বচ্ছতার অভিযোগ উঠছে, যা নিয়ে সরব প্রায় সব বিরোধী দলই। নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে বারবার। এই পরিস্থিতিতে সিপিআই(এম) মনে করছে, ভারতের গণতন্ত্রকে বাঁচাতে নির্বাচনী সংস্কার এখন সময়ের সবচেয়ে বড় দাবি। কেবল নির্বাচনই নয়, মোট পাঁচটি জ্বলন্ত ইস্যুকে সামনে রেখে দেশব্যাপী এই আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়া হবে বলে কেন্দ্রীয় কমিটির বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।

বাম নেতৃত্ব এবার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে মহিলা সংরক্ষণ বিলের শর্তসাপেক্ষ বিষয়টিতে। মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণের আইন পাস হলেও, তার সঙ্গে ডিলিমিটেশন বা আসন পুনর্বিন্যাসের মতো কঠিন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। বামেদের দাবি, এই শর্তগুলি কার্যত জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার শামিল। অবিলম্বে এই অহেতুক শর্ত বাতিল করে মহিলা সংরক্ষণ আইন দ্রুত কার্যকর করার দাবি জানিয়েছে সিপিআই(এম)।

পাশাপাশি, মোদী সরকারের জনবিরোধী নীতির বিরুদ্ধে শ্রমিক ও কৃষক সংগঠনগুলি আগামী ১০ আগস্ট ‘জেল ভরো’ কর্মসূচির ডাক দিয়েছে। কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়ন এবং সংযুক্ত কিসান মোর্চার এই লড়াইকে পূর্ণ সমর্থন জানানোর পাশাপাশি দেশজুড়ে এর পক্ষে প্রচার চালানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বামেরা। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও সিপিআই(এম) তাদের অবস্থান স্পষ্ট করেছে—প্যালেস্তাইন, ভেনেজুয়েলা ও কিউবায় সাম্রাজ্যবাদী আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে শামিল করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নজিরবিহীন বিপর্যয় এবং একের পর এক পরীক্ষায় প্রশ্ন ফাঁসের কেলেঙ্কারির দায় নিয়ে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফার দাবি ক্রমেই জোরালো হচ্ছে। আগামী ২০ জুলাই ছাত্রদের ‘সংসদ অভিযান’ কর্মসূচিতে বামেরা পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে কেন্দ্রের অনমনীয় মনোভাবের তীব্র নিন্দা করেছে কেন্দ্রীয় কমিটি। একই সঙ্গে, লাদাখের দাবিতে দিল্লির যন্তর-মন্তরে অনশনরত সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুকের শারীরিক অবনতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নেতৃত্ব। সব মিলিয়ে, আসন্ন দিনগুলিতে কেন্দ্রের বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে রাজপথে লড়াইয়ে নামার চূড়ান্ত বার্তা দিল সিপিআই(এম)।