কাটমানির টাকা ফেরত দাও! কাউন্সিলরের বাড়ির সামনে রণক্ষেত্র বসিরহাট, তুমুল ভাঙচুর ও হাতাহাতি

পশ্চিমবঙ্গের বসিরহাট পুরসভার তিন নম্বর ওয়ার্ডে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠল জনতা। সরকারি আবাস যোজনার টাকা আত্মসাৎ, ত্রাণ সামগ্রীর দুর্নীতি এবং কাটমানি আদায়ের অভিযোগে কাউন্সিলর অদিতি মণ্ডলের বাড়ি ঘিরে আজ সকালে রণক্ষেত্রের চেহারা নিল এলাকা। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, উত্তেজিত জনতা কাউন্সিলরের স্বামী তথা স্থানীয় তৃণমূল নেতা জগন্নাথ মণ্ডলকে রাস্তায় পেয়ে ব্যাপক মারধর করে। ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এদিন। অভিযোগ, গরিব মানুষকে পাকা বাড়ি দেওয়ার নাম করে কাউন্সিলরের স্বামী ও তাঁর ঘনিষ্ঠ চক্র কাটমানি আদায় করেছে। এছাড়াও আয়লা, আমফানের মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগের ত্রাণ সামগ্রী, ক্ষতিপূরণ এবং করোনার সময়কালের সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে এই তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধে। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, প্রতিবাদ করলেই সাধারণ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেওয়া হতো। এই দমবন্ধ করা পরিস্থিতির বিরুদ্ধে আজ কয়েকশো মানুষ একত্রিত হয়ে কাউন্সিলরের বাড়িতে চড়াও হন। তাঁদের স্পষ্ট দাবি, জনগণের টাকা সুদসমেত ফেরত দিতে হবে এবং অসম্পূর্ণ বাড়িগুলো দ্রুত নির্মাণ করতে হবে।
বিক্ষোভের এক পর্যায়ে উত্তপ্ত জনতা জগন্নাথ মণ্ডলকে বাড়ির সামনে পেয়ে ঘিরে ফেলে। তাঁকে ব্যাপক মারধর করা হয় বলে অভিযোগ। পাশাপাশি কাউন্সিলরের বাড়ি লক্ষ্য করে দেদার ইট-পাটকেল ছোঁড়া হয়, যার ফলে বাড়িটিতে ব্যাপক ভাঙচুর চালানো হয়েছে। এই তাণ্ডবের ভিডিয়ো মুহূর্তে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে শোরগোল পড়ে যায়।
আন্দোলনকারী রাজু মণ্ডল বলেন, “তিন নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলার অদিতি মণ্ডল গরিবের টাকা মেরেছে। আমাদের প্রাপ্য টাকা ফেরত না দেওয়া পর্যন্ত আমরা সরব না।” আর এক বাসিন্দা দীপক পালিতের অভিযোগ, ২০১৫ সাল থেকে একের পর এক দুর্নীতির নজির গড়েছেন এই নেতা। এমনকি ঘরের ছাউনি দিয়ে জল পড়লেও নেতা এসি রুমে আরামে ঘুমাচ্ছেন বলে কটাক্ষ করেন মাম্পি মণ্ডল নামে এক ভুক্তভোগী।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে শেষপর্যন্ত বসিরহাট থানার বিশাল পুলিশ বাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পুলিশ কাউন্সিলরের স্বামীকে উত্তেজিত জনতার হাত থেকে উদ্ধার করে নিরাপদ স্থানে নিয়ে যায়। বর্তমানে ওই এলাকায় পুলিশি টহল চলছে এবং পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। এলাকাবাসীর অনড় দাবি, তদন্ত শুধু নয়, অবিলম্বে তাঁদের পাওনা টাকা ফেরতের আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ, তবে এই ঘটনায় তৃণমূলের অন্দরেও অস্বস্তি বাড়ছে।