ফের খুলছে কামদুনি ফাইল? মুখ্যমন্ত্রীর জনতার দরবারে নির্যাতিতার পরিবার, এনকাউন্টারের দাবি ভাইয়ের!

কামদুনি ধর্ষণ ও খুনের ঘটনার দীর্ঘ ১৩ বছর পেরিয়ে গেলেও অধরা বিচার। এই দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এবার নতুন করে আশার আলো দেখছেন নির্যাতিতার পরিবার। বুধবার মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর ‘জনতার দরবারে’ হাজির হন নির্যাতিতার ভাই এবং কামদুনি আন্দোলনের পরিচিত দুই মুখ টুম্পা কয়াল ও মৌসুমী কয়াল। তদন্তে চরম গাফিলতি এবং অতীতের সরকারগুলোর সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তাঁরা সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর কাছে সুবিচারের আর্জি জানিয়েছেন।
২০১৩ সালের ৭ জুন উত্তর ২৪ পরগনার কামদুনিতে এক কলেজছাত্রীকে পৈশাচিক কায়দায় ধর্ষণ ও খুন করা হয়। সেই ঘটনার বিচার চেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে রাজপথে লড়াই করেছেন টুম্পা ও মৌসুমী। বুধবার মুখ্যমন্ত্রীর কাছে তাঁরা অভিযোগ করেন যে, সিআইডি তদন্তে একাধিক গাফিলতি ছিল এবং ভোট ব্যাংকের স্বার্থে অতীতের সরকার ১৬ বার সরকারি আইনজীবী (পিপি) পরিবর্তন করেছে। নির্যাতিতার ভাইয়ের অভিযোগ, সঠিক বিচার না পাওয়ার কারণেই উচ্চ আদালতে অনেক আসামী বেকসুর খালাস পেয়ে গেছে।
আবেগাপ্লুত কণ্ঠে নির্যাতিতার ভাই মুখ্যমন্ত্রীকে বলেন, “জেলে কেন বসিয়ে রাখা হবে? যারা এই জঘন্য অপরাধ করেছে, তাদের ওখানেই এনকাউন্টার হোক।” ন্যায়বিচারের আশায় তারা এখন প্রশাসনের শীর্ষস্তরের দিকে তাকিয়ে। সাম্প্রতিক অতীতে আরজি কর কাণ্ডের মতো মামলার ফাইল নতুন করে খোলার দৃষ্টান্ত দেখে কামদুনির পরিবারও আশাবাদী। এর আগে বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্যও কামদুনির ফাইল পুনরায় খোলার ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, যা এখন নতুন করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে।
মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী এই মামলার গুরুত্ব অনুধাবন করে নির্যাতিতার পরিবারকে আইনি সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, সুপ্রিম কোর্টে বিচারাধীন এই মামলায় রাজ্য সরকার আর বাধা হয়ে দাঁড়াবে না, বরং পরিবারকে সরকারি আইনজীবীর মাধ্যমে সহায়তা করবে। কামদুনি আন্দোলনের দুই মুখ টুম্পা ও মৌসুমীও এদিন মুখ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর নতুন করে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার বার্তা দিয়েছেন। তবে দেখার বিষয়, ১৩ বছর পর এই আইনি লড়াই কোন দিকে মোড় নেয় এবং অপরাধীরা শেষ পর্যন্ত কঠোর শাস্তির মুখে পড়ে কি না।