‘স্তন স্পর্শ করা ধর্ষণ নয়’! পাটনা হাইকোর্টের রায়ে ক্ষুব্ধ শীর্ষ আদালত, জারি নতুন নির্দেশিকা

যৌন নির্যাতন সংক্রান্ত একটি মামলার রায়ে পাটনা হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করল দেশের শীর্ষ আদালত। সম্প্রতি হাইকোর্টের সিঙ্গল বেঞ্চ একটি রায়ে মন্তব্য করেছিল যে, কোনো নারীর স্তন স্পর্শ করা বা জোরপূর্বক সালোয়ার খোলার চেষ্টা করা ‘ধর্ষণের চেষ্টা’ (Attempt to Rape) নয়, বরং এটি কেবল মহিলার শ্লীলতাহানির অপরাধ। এই রায়টিকেই অত্যন্ত অসংবেদনশীল এবং আইনগত গবেষণার অভাব হিসেবে দেখছে সুপ্রিম কোর্ট।

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণ

প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই রায় নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করে। প্রধান বিচারপতি সাফ জানিয়েছেন, “বিচারকদেরও গবেষণা করার দায়িত্ব রয়েছে। আদালতের কর্মীরা সব কাজ করে দেবে, এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।” তিনি আক্ষেপ করে বলেন, নিম্ন আদালত এবং হাইকোর্টের রায়ে প্রায়শই যৌন অপরাধ সংক্রান্ত বিষয়ে আইনি নজির এবং সংবেদনশীলতার অভাব দেখা যাচ্ছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

বিতর্কিত রায়টি কী ছিল?

গত ৯ জুলাই পাটনা হাইকোর্টের বিচারপতি পূর্ণেন্দু সিং ২০০৮ সালের একটি যৌন নির্যাতন মামলার রায়ে অভিযুক্তের ‘ধর্ষণের চেষ্টা’-র সাজা মকুব করে দেন। আদালত জানায়, ঘটনার সময় অভিযুক্ত মহিলার সালোয়ার খোলার চেষ্টা করলেও ‘পেনিট্রেশন’ বা ধর্ষণের সুস্পষ্ট কোনো প্রমাণ নেই। তাই এটিকে ধর্ষণের চেষ্টা না বলে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৫৪ ধারায় শ্লীলতাহানি হিসেবেই গণ্য করা উচিত। এই পর্যবেক্ষণটি প্রকাশ্যে আসতেই দেশজুড়ে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।

শীর্ষ আদালতের কড়া নির্দেশ বিচার ব্যবস্থার এই অসংবেদনশীলতা রুখতে সুপ্রিম কোর্ট বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিয়েছে:

  • NJA হ্যান্ডবুক অনুসরণ: যৌন অপরাধ সংক্রান্ত তদন্ত, চার্জশিট ও বিচার প্রক্রিয়ায় ন্যাশনাল জুডিশিয়াল অ্যাকাডেমির (NJA) তৈরি করা হ্যান্ডবুক ও সুপারিশ বাধ্যতামূলকভাবে অনুসরণ করতে হবে।

  • রিপোর্ট প্রকাশ: এই সংক্রান্ত রিপোর্ট দেশের সমস্ত হাইকোর্ট এবং সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করতে হবে।

  • থানায় নির্দেশিকা: রাজ্য সরকারগুলিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে প্রতিটি থানায় এই নীতিমালার কপি পাঠানো হয়, যাতে এফআইআর নথিভুক্ত করা ও তদন্তের ক্ষেত্রে কোনো ত্রুটি না থাকে।

কেন এই সতর্কতা? আইনজীবী শোভা গুপ্তা আদালতে জানান, এলাহাবাদ হাইকোর্টের অনুরূপ একটি রায় সুপ্রিম কোর্ট বাতিল করার পরেও পাটনা হাইকোর্ট একই ধরনের পর্যবেক্ষণ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত জানিয়েছে, তারা পাটনা হাইকোর্টের এই রায়ের প্রেক্ষিতে একটি বিস্তারিত ও কড়া নির্দেশিকা জারি করবে। বিচারকদের পুঙ্খানুপুঙ্খ আইনি গবেষণা ও সংবেদনশীল দৃষ্টিভঙ্গি অনুসরণ করা যে বিচারব্যবস্থার অবিচ্ছেদ্য অংশ, তা আবারও মনে করিয়ে দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত।