‘শহিদ তোমার-আমার নয়, সবার’, শহিদ দিবস নিয়ে বড় ঘোষণা কাকলি ঘোষ দস্তিদারের

২১শে জুলাইয়ের শহিদ দিবসকে কেন্দ্র করে রাজ্য রাজনীতিতে এবার এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত মিলল। তৃণমূল কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের রীতি মেনে পালিত এই দিনটিকে এবার আরও ব্যাপক আকার দেওয়ার বার্তা দিলেন বারাসাতের সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, এবার থেকে জাতীয় স্তরে ‘NCPI’ (এনসিপিআই)-ও শহিদ দিবস পালন করবে। রাজনৈতিক গণ্ডি পেরিয়ে সকল শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদনই এই কর্মসূচির মূল লক্ষ্য।
বুধবার এক সাংবাদিক বৈঠকে সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদার শহিদ দিবসের তাৎপর্য নিয়ে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। তিনি বলেন, “সেদিন যে বিভীষিকাময় ঘটনা ঘটেছিল, তা আমার চোখের সামনে ঘটেছিল। সেই স্মৃতি আজও দগদগে।” তিনি আরও বলেন, “শহিদদের নিয়ে রাজনীতি করাটা ঠিক নয়। আমার শহিদ বা তোমার শহিদ—এই ভেদাভেদ করাটাও উচিত নয়। যারা প্রাণ দিয়েছেন, তারা দেশের সম্পদ। পৃথিবীর সকল শহিদের প্রতি সম্মান জানানো আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই মন্তব্য তাৎপর্যপূর্ণ। সাধারণত শহিদ দিবস নিয়ে রাজ্যে শাসকদল এবং বিরোধীদের মধ্যে এক ধরণের চাপানউতোর লক্ষ্য করা যায়। কিন্তু কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই ঘোষণা রাজনৈতিক মেরুকরণকে সরিয়ে রেখে মানবিকতাকে প্রাধান্য দেওয়ার এক নতুন দিশা দেখাল। এনসিপিআই-এর ব্যানারে এই কর্মসূচি পালনের ঘোষণা রাজ্যের রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই বক্তব্য রাজনৈতিক মহলে চর্চার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তিনি মনে করেন, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের পরিচয়ের ঊর্ধ্বে উঠে শহিদের আত্মত্যাগকে সম্মান জানানোই প্রকৃত শ্রদ্ধা। তাই এনসিপিআই এবার নিজেদের মতো করে শহিদ দিবস পালনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে তারা বার্তা দিতে চায় যে, শহিদদের আত্মত্যাগ কোনো বিশেষ দলের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নয়।
এখন দেখার বিষয়, এই কর্মসূচির রূপরেখা কী হয় এবং রাজ্যের অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো এই বিষয়ে কী ধরণের প্রতিক্রিয়া দেখায়। তবে একটি বিষয় স্পষ্ট, সাংসদ কাকলি ঘোষ দস্তিদারের এই ঘোষণা শহিদ দিবস পালনের চিরাচরিত ধারায় একটি বড় পরিবর্তন আনতে চলেছে। রাজনৈতিক ভেদাভেদ ভুলে শহিদদের প্রতি এই সামগ্রিক শ্রদ্ধার্ঘ্য অর্পণের বিষয়টি আগামী দিনে বাংলার রাজনীতিতে এক নতুন আলোচনার খোরাক জোগাবে।