রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার? একের পর এক মামলায় জড়িয়ে কলকাতা হাইকোর্টে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়

রাজ্যে ক্ষমতার পালাবদলের পরবর্তী রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে একের পর এক মামলায় জড়িয়ে পড়ছেন তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক ও ডায়মন্ড হারবারের সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। মূলত রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণেই তাঁর বিরুদ্ধে একের পর এক ‘অযৌক্তিক’ অভিযোগ দায়ের করা হচ্ছে বলে দাবি করে এবার কলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হলেন তিনি। বুধবার বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্যের এজলাসে এই মামলাটি উঠলে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে তীব্র প্রশ্ন তুলেছেন তৃণমূল সাংসদ।
অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের অভিযোগ, ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর থেকেই রাজ্যের বিভিন্ন থানায় তাঁর এবং তাঁর আপ্ত সহায়ককে জড়িয়ে এফআইআর দায়ের করার এক অশুভ প্রবণতা শুরু হয়েছে। অভিযোগ, এই মামলাগুলির অধিকাংশ ক্ষেত্রেই চার থেকে পাঁচ বছর আগের কোনো ঘটনার কথা উল্লেখ করা হচ্ছে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, কোনো প্রকার প্রাথমিক অনুসন্ধান বা তথ্যের সত্যতা যাচাই না করেই পুলিশ তড়িঘড়ি মামলা রুজু করছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের দাবি, বিরোধী শিবিরের একজন শক্তিশালী কণ্ঠস্বর হিসেবে তাঁকে দমন করতেই এই পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে।
আদালতের কাছে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় আর্জি জানিয়েছেন যে, রাজ্যের কোন থানায় এই মুহূর্তে ঠিক কতগুলি অভিযোগ তাঁর বিরুদ্ধে দায়ের রয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ তালিকা যেন রাজ্য প্রশাসন আদালতে পেশ করে। পাশাপাশি, পুলিশের এই অতিসক্রিয়তা এবং রাজনৈতিক মদতপুষ্ট এফআইআর দায়েরের প্রক্রিয়া অবিলম্বে বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন তিনি।
তৃণমূল সাংসদের আইনি দল আদালতের নজরে এনেছে যে, গত ১৫ মে বিধাননগর সাইবার থানা থেকে শুরু করে ভবানীপুর, শিলিগুড়ি, কালিতলা এবং বিষ্ণুপুরের মতো বিভিন্ন থানায় একাধিক অভিযোগ জমা পড়েছে। এই প্রতিটি অভিযোগকেই তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে অভিহিত করেছেন।
মামলার শুনানির পর বিচারপতি সৌগত ভট্টাচার্য রাজ্যের অ্যাডিশনাল অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্যকে মৌখিকভাবে নির্দেশ দিয়েছেন, আগামী বুধবারের মধ্যে রাজ্যকে এই বিষয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দিতে হবে। রাজ্যকে জানাতে হবে, বর্তমানে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে কোন কোন থানায় এবং কী কী অভিযোগে মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই নির্দেশ আসার পর রাজনৈতিক ও আইনি মহলে শোরগোল পড়ে গিয়েছে। আগামী বুধবারের শুনানিতে রাজ্যের দেওয়া রিপোর্ট এবং তার ভিত্তিতে আদালত কী পর্যবেক্ষণ দেয়, এখন সেদিকেই তাকিয়ে রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।