নবান্নের কড়া ফতোয়া, সরকারি কাজে আর চলবে না এজেন্সির দাদাগিরি, টেন্ডার নিয়ে বড় ঘোষণা!

সরকারি কাজে স্বচ্ছতা ফেরাতে এবং আর্থিক শৃঙ্খলার অন্দরে জমাট বাধা অনিয়ম রুখতে এবার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত নিল পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। এতদিন বহু সরকারি দফতরে একই সংস্থাকে দিয়ে বছরের পর বছর কাজ করানোর যে একচেটিয়া প্রবণতা ছিল, তাতে সরাসরি রাশ টানল নবান্ন। মুখ্যসচিব মনোজ কুমার আগরওয়ালের জারি করা নতুন নির্দেশিকায় স্পষ্ট জানানো হয়েছে, চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর বারবার এজেন্সির মেয়াদ বাড়ানো আর বরদাস্ত করা হবে না।
দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা যাচ্ছিল, বিভিন্ন দফতর তাদের অধীনস্থ কাজের জন্য নিযুক্ত সংস্থাগুলির চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার ঠিক মুখে অর্থ দফতরের অনুমোদনের জন্য তড়িঘড়ি ফাইল পাঠাচ্ছে। অনেক সময় আগাম অনুমোদন ছাড়াই দফতরগুলি নিজেদের মতো চুক্তির মেয়াদ বাড়িয়ে নিচ্ছিল, যা প্রশাসনিক আর্থিক শৃঙ্খলার সম্পূর্ণ পরিপন্থী। এই প্রবণতা বন্ধ করতেই নবান্ন এবার কঠোর মনোভাব নিয়েছে।
নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, বর্তমান চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ার অন্তত তিন মাস আগেই নতুন এজেন্সির খোঁজে টেন্ডার ডাকার প্রক্রিয়া শুরু করা বাধ্যতামূলক। নির্দেশিকায় স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, “বর্তমান চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধি বা পুনর্নবীকরণের কোনো প্রস্তাব কোনো অবস্থাতেই আর গ্রহণ করা হবে না। সময়মতো পদক্ষেপ না করে শেষ মুহূর্তে চুক্তির মেয়াদ বৃদ্ধির কোনো সুযোগ আর দেওয়া হবে না।” এই নিয়ম শুধুমাত্র রাজ্যের মূল দফতরগুলির জন্যই নয়, বরং পঞ্চায়েত, পুরসভা এবং সমস্ত রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য।
সরকারি কাজের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে প্রতিটি দফতরের প্রধানকে প্রতি মাসে সব চুক্তির বর্তমান অবস্থা নিয়ে পর্যালোচনা বৈঠক করতে হবে। সেই তালিকা নিয়মিত অর্থ দফতরে জমা দিতে হবে, যাতে কোনো দফতর নিয়ম লঙ্ঘন করলে সহজেই তা চিহ্নিত করা যায়। নতুন এই নির্দেশিকায় কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থারও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে। অননুমোদিতভাবে মেয়াদ বাড়ানো বা টেন্ডার প্রক্রিয়ায় দেরি হওয়াকে ‘আর্থিক শৃঙ্খলার গুরুতর লঙ্ঘন’ হিসেবে দেখা হবে বলে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।
প্রশাসনিক পর্যবেক্ষকদের মতে, রাজ্যের এই পদক্ষেপ অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এতদিন টেন্ডার প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট কিছু সংস্থার আধিপত্য থাকায় কাজের গুণমান নিয়ে প্রায়শই প্রশ্ন উঠত এবং প্রতিযোগিতা নষ্ট হতো। নবান্নের এই সিদ্ধান্তের ফলে সরকারি কাজে যেমন গতি আসবে, তেমনই প্রতিযোগিতামূলক দরপত্রের আসল উদ্দেশ্য সফল হবে। প্রতিটি স্তরের আধিকারিকদের ব্যক্তিগত দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার মাধ্যমে সরকার এই নতুন নিয়মকে কঠোরভাবে কার্যকর করতে বদ্ধপরিকর। প্রশাসনিক স্তরে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এটি নিঃসন্দেহে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন।