ফের জোড়াফুলে ফাটল! প্রাক্তন পুরপ্রধান গ্রেফতার থেকে আবাস যোজনার কাটমানি—তৃণমূলের অন্দরে দুর্নীতির পাহাড়

রাজ্যজুড়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অন্দরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ ঘিরে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক শোরগোল। একদিকে যেমন প্রাক্তন পুরপ্রধানদের গ্রেফতারি, তেমনই অন্যদিকে আবাস যোজনা ও কয়লা পাচারের মতো চাঞ্চল্যকর দুর্নীতির ঘটনা সামনে আসায় তৃণমূলের অস্বস্তি ক্রমশ বেড়েই চলেছে।

নৈহাটি পুরসভার প্রাক্তন পুরপ্রধান তথা তৃণমূল নেতা অশোক চট্টোপাধ্যায়কে গ্রেফতার করল পুলিশ। বিজেপির আয়োজিত একটি কর্মসূচিতে বিজেপি কর্মীদের মারধর এবং বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে তাঁর বিরুদ্ধে। বিজেপির দাবি, ২০২৫ সালের ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর সাফল্য উদযাপনের জন্যই এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল। উল্লেখযোগ্যভাবে, এর আগেই গঙ্গা থেকে বালি পাচারের অভিযোগে অশোক চট্টোপাধ্যায়ের ছেলেকেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। পালাবদলের পর এই গ্রেফতারিকে ঘিরে স্থানীয় রাজনীতিতে জল্পনা তুঙ্গে।

একই সময়ে দুর্নীতি ও কাটমানির অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বসিরহাট। সেখানকার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের তৃণমূল কাউন্সিলর অদিতি মণ্ডলের বিরুদ্ধে আবাস যোজনার ঘর পাইয়ে দেওয়ার নাম করে কাটমানি নেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন এলাকার বাসিন্দারা। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে বচসার জেরে কাউন্সিলরের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘ সময় ধরে এই ধরনের দুর্নীতির সাথে জড়িত শাসক দলের নেতারা।

এদিকে, হলদিয়া বন্দর থেকে কয়লা চুরির অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছে হলদিয়া পুরসভার প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর আজগর আলির দাদা শেখ আশরফ আলি-সহ ৩ জনকে। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, ধৃতের সংস্থা ‘ফাইভস্টার শিপিং এজেন্সি’ কয়লা পরিবহণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ছিল। বন্দর থেকে কয়লা পাচারের সময় সিআইএসএফ (CISF)-এর হাতে হাতেনাতে ধরা পড়েন তাঁরা।

সবশেষে, পূর্ব বর্ধমানের মঙ্গলকোটে আবাস যোজনা ঘিরে এক ভয়াবহ দুর্নীতির তথ্য সামনে এসেছে। কৈচর ১ নম্বর গ্রাম পঞ্চায়েতের প্রাক্তন তৃণমূল প্রধান সুফল প্রধানের বিরুদ্ধে অভিযোগের পাহাড় জমেছে। সরকারি নথি অনুযায়ী, পদ্মাবতী যশ নামে এক মহিলা আবাস যোজনার টাকা পেয়েছেন, অথচ তিনি প্রকল্পের জন্য কোনো আবেদনই করেননি। আবার ২০১২ সালে প্রয়াত জীবনকৃষ্ণ চৌধুরীর নামে ২০২১-২২ অর্থবর্ষে তিনটি কিস্তিতে ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। সেই টাকা উপভোক্তার পরিবারের বদলে ঢুকেছে তৃণমূল নেতাদের পকেটে। এই ঘটনার পর থেকেই প্রাক্তন পঞ্চায়েত প্রধান এলাকাছাড়া। বিরোধীরা এই ঘটনায় তৃণমূলের সামগ্রিক সততা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তীব্র কটাক্ষ করেছে। সব মিলিয়ে রাজ্যজুড়ে তৃণমূল নেতাদের একের পর এক দুর্নীতির ঘটনা শাসক দলের জন্য বড় মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।