স্পেনের কাছে ফের ধুলোয় মিশল ফ্রান্স! ১৬ বছর পর বিশ্বকাপের ফাইনালে ইয়ামালের দল

বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের ফ্রান্স আর নক-আউট পর্বে আসা ফ্রান্সের পারফরম্যান্স যেন দুটি ভিন্ন মেরু! যাঁর আক্রমণের তেজ নিয়ে বিশ্বজুড়ে চর্চা ছিল, সেই ফ্রান্সই আজ স্পেনের সামনে কার্যত অসহায় আত্মসমর্পণ করল। স্পেনের বিরুদ্ধে ফ্রান্সের এই ভরাডুবি আবারও প্রমাণ করল, আধুনিক ফুটবলে ফরাসি আক্রমণের সেরা ‘অ্যান্টিডোট’ সম্ভবত স্পেনের ইস্পাত-কঠিন রক্ষণভাগ এবং মাঝমাঠের নিখুঁত রসায়ন।

ম্যাচের শুরু থেকেই স্পেনের রণকৌশল ছিল স্পষ্ট। ইয়ামাল ম্যাচের আগে যে হুঙ্কার দিয়েছিলেন, তা এদিন মাঠে বাস্তবায়িত করে দেখালেন রদ্রি ও পেদ্রোরা। তবে ফ্রান্সের আক্রমণের ধার যে ভোঁতা হয়ে গেল, তার প্রধান কারণ স্পেনের রক্ষণ। ম্যাচের ২০ মিনিটের মাথায় দুর্ভাগ্যজনকভাবে বক্সের মধ্যে ইয়ামালকে ফাউল করে বসেন লুকাস দিগনে। পেনাল্টি থেকে গোল করতে কোনো ভুল করেননি মিকেল ওয়েরজাবাল। এরপর উইলিয়াম সালিবার চোটের কারণে মাঠ ছাড়া ফ্রান্সের রক্ষণভাগকে আরও অগোছালো করে তোলে।

প্রথমার্ধে ফরাসি ডিফেন্ডার ঝুল কুন্ডে ও উপমেকানো স্পেনের বেশ কিছু আক্রমণ রুখে দিলেও, ফ্রান্সের আক্রমণভাগ ছিল চূড়ান্ত ব্যর্থ। এমবাপে, বার্কোলা ও ওলিসে—এই ত্রয়ীর মধ্যে সমন্বয়ের অভাব ছিল চোখে পড়ার মতো। বলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বারবার খেই হারিয়েছে ফরাসি ব্রিগেড। দ্বিতীয়ার্ধে ৫৮ মিনিটের মাথায় পেদ্রো পোরোর গোলটি ফ্রান্সের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেয়। দুই গোলে পিছিয়ে পড়ার পর ফরাসিদের শরীরী ভাষায় পরাজয়ের ছাপ স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

এরই মধ্যে স্পেনের গোলরক্ষক উনেই সিমন যেন তেকাঠির নিচে এক অজেয় দুর্গের মতো দাঁড়িয়ে ছিলেন। ফ্রান্সের গুটিকয়েক ভালো আক্রমণ তিনি অবিশ্বাস্য ক্ষিপ্রতায় রুখে দেন। এই বিশ্বকাপে সিমনের ফর্ম গোল্ডেন গ্লাভস জয়ের অন্যতম দাবিদার হিসেবে তাঁকে প্রতিষ্ঠা করেছে।

ইউরো কাপ ২০২৪, নেশন্স লিগ ২০২৫ এবং এবার ২০২৬ বিশ্বকাপ—একই চিত্রনাট্য বারবার ফিরে এল। কেন বারবার স্পেনের কাছে আটকে যাচ্ছে দেশঁর ফ্রান্স? গত তিন বছরেও দে লা ফুয়েন্তের স্ট্র্যাটেজির কোনো কার্যকর উত্তর খুঁজে পেল না ফরাসি শিবির। এই হারের মাধ্যমে ১৬ বছর পর ফের বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠল স্পেন। ইয়ামাল-রদ্রিদের বর্তমান ছন্দ যেভাবে উড়ছে, তাতে কি ফের বিশ্বকাপ ঘরে তুলতে পারবে স্পেন? এখন সেই প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার অপেক্ষায় ফুটবল বিশ্ব।