শেয়ার বাজারে বড় চমক! সেনসেক্স-নিফটির দুর্দান্ত উত্থান, খুশির হাওয়া বিনিয়োগকারীদের মনে

টানা পতনের পর বুধবার ভারতীয় শেয়ার বাজারে ফিরল স্বস্তির হাওয়া। গত মঙ্গলবার সেনসেক্স ৫৬১ পয়েন্টের বড় ধাক্কা খাওয়ার পর, এদিন সকাল থেকেই ইতিবাচক ধারায় লেনদেন শুরু হয়েছে। সপ্তাহের মাঝামাঝি সময়ে সেনসেক্স ১৩৭ পয়েন্ট বেড়ে ৭৭,১৯২-এ খোলে এবং নিফটি ৩৩ পয়েন্ট বেড়ে ২৪,০৮৫ পয়েন্টে পৌঁছেছে। এশীয় বাজারের শক্তিশালী পারফরম্যান্স এবং মার্কিন মুদ্রাস্ফীতির তথ্য—এই দুইয়ের জোড়া ধাক্কায় বিনিয়োগকারীদের মধ্যে নতুন করে আশার আলো দেখা দিয়েছে।
এশীয় বাজারের জয়জয়কার:
বুধবার এশীয় বাজারগুলো ছিল ঊর্ধ্বমুখী। জাপানের ২২৫ সূচক ০.৬% বেড়েছে এবং টপিক্স ০.৫৩% লাভ করেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কোস্পি এবং স্মল-ক্যাপ কোসড্যাক সূচকে যথাক্রমে ৬.৫% এবং ৪.৯% শক্তিশালী উত্থান দেখা গেছে। এছাড়া হংকংয়ের হ্যাং সেং সূচক ০.৫২% বেড়ে ২৪,৩৪০ পয়েন্টে লেনদেন করছে। বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ঊর্ধ্বগতি মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জুনের মুদ্রাস্ফীতির তথ্যের প্রভাবে ঘটেছে। মার্কিন রিটেইল ইনফ্লেশন ৩.৫%-এ নেমে এসেছে, যা ৩.৮%-এর অনুমানের চেয়ে অনেক কম। মুদ্রাস্ফীতির এই নিম্নমুখী প্রবণতা ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা কমিয়ে দিয়েছে, যা প্রযুক্তি ও সেমিকন্ডাক্টর স্টকগুলোতে নতুন উদ্দীপনা এনেছে।
মার্কিন বাজার ও আইবিএম-এর পতন:
মার্কিন শেয়ার বাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেলেও প্রযুক্তি শেয়ারগুলোতে ব্যাপক পুনরুদ্ধারের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। এসঅ্যান্ডপি ৫০০ ফিউচার ০.১১% এবং নাসডাক ১০০ ফিউচার ০.৩৭% বৃদ্ধি পেয়েছে। তবে ডাও জোন্স সূচক কিছুটা চাপে রয়েছে, যার প্রধান কারণ শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি সংস্থা আইবিএম-এর শেয়ারে ঐতিহাসিক ২৫% পতন। এই একক ঘটনাটি ডাও জোন্সের সামগ্রিক উত্থানকে ধীর করে দিয়েছে।
তেল ও মুদ্রার বাজারে অস্থিরতা:
অপরিশোধিত তেলের দাম টানা তৃতীয় দিনের মতো ঊর্ধ্বমুখী। ব্রেন্ট ক্রুড ১.৭২% বেড়ে ব্যারেল প্রতি ৮৬.১৯ ডলারে পৌঁছেছে, আর ডব্লিউটিআই তেলের দাম ১.৪০% বেড়ে ৮০.৪০ ডলারে দাঁড়িয়েছে। ইরান ইস্যুতে মার্কিন প্রেসিডেন্টের কঠোর হুঁশিয়ারি বাজারে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। মুদ্রার বাজারে ডলার সূচক ০.০৭% কমে ১০০.৮৭-এ লেনদেন হচ্ছে। বর্তমানে এক মার্কিন ডলারের বিনিময় মূল্য ভারতীয় মুদ্রায় প্রায় ৯৬.০৯ রুপি। আগের দিন বাজার বন্ধের সময় রুপির মান ছিল ৯৬.২০, যা আর্থিক বাজারের অস্থিরতাকে স্পষ্ট করে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য সতর্কতা:
শেয়ার বাজার বর্তমানে মুদ্রাস্ফীতি ও ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মাঝে দোদুল্যমান। বাজারের এই উত্থান সাময়িক না দীর্ঘস্থায়ী, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। তাই বিনিয়োগকারীদের খুব সাবধানে পা ফেলতে হবে। বাজার বিশেষজ্ঞরা পরামর্শ দিচ্ছেন, কোনো নির্দিষ্ট স্টকে বিনিয়োগের আগে তার দীর্ঘমেয়াদী ভিত্তি ও বাজারের বর্তমান ট্রেন্ডটি ভালো করে যাচাই করে নেওয়া উচিত। মনে রাখবেন, শেয়ার বাজারে বিনিয়োগ ঝুঁকি সাপেক্ষ, তাই কোনো হুজুগে না মেতে আর্থিক পরামর্শদাতার মতামত নিয়ে বিনিয়োগ করাই শ্রেয়।