অন্নপূর্ণা যোজনার টাকা পাননি? দুশ্চিন্তা ঝেড়ে ফেলুন, বড় বার্তা দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী

অন্নপূর্ণা যোজনা নিয়ে রাজ্যজুড়ে তৈরি হওয়া জল্পনা ও উপভোক্তাদের উদ্বেগের প্রেক্ষিতে বড়সড় আশ্বাস দিলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। রবিবারের মেচেদার এক সাংগঠনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি সাফ জানিয়ে দিলেন, অন্নপূর্ণা যোজনার অর্থ বণ্টনের ক্ষেত্রে কোনো বৈষম্য করা হবে না। প্রতিটি যোগ্য উপভোক্তার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ধাপে ধাপে টাকা পৌঁছে দেওয়া হবে।

গত দু’মাস আগে ক্ষমতায় আসার পর বিজেপি সরকার প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত একাধিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “তৃণমূল কংগ্রেস সরকার লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্প চালু করতে ৯ মাস সময় নিয়েছিল। আমরা অন্নপূর্ণা যোজনার মতো একটি বৃহৎ প্রকল্প মাত্র দু’মাসে কার্যকর করছি। এই ধরনের বিশাল কর্মযজ্ঞে প্রাথমিক পর্যায়ে সামান্য প্রশাসনিক জটিলতা হওয়া অস্বাভাবিক নয়।” তিনি আশ্বস্ত করেন যে, সঠিক উপভোক্তা নির্বাচন করার জন্য প্রশাসনিক স্তরে যাচাই প্রক্রিয়া চলছে, যাতে কোনো অযোগ্য ব্যক্তি প্রকল্পের সুবিধা না পান এবং প্রকৃত প্রাপক যাতে বঞ্চিত না হন।

যাঁদের অ্যাকাউন্টে এখনও টাকা পৌঁছায়নি, তাঁদের হতাশ না হওয়ার বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি জানান, অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, তবে প্রযুক্তিগত বা তথ্যগত ত্রুটির কারণে অনেকের টাকা পেতে দেরি হচ্ছে। প্রশাসন সেই সমস্যা সমাধানে দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে। এছাড়া তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, এই প্রকল্পের আওতায় কোনোভাবেই কোনো অভারতীয় বা অবৈধ ব্যক্তিকে সুবিধা দেওয়া হবে না।

CAA এবং ট্রাইব্যুনাল নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, যারা বাংলাদেশ থেকে শরণার্থী হিসেবে এসেছেন এবং CAA-তে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সামাজিক ভাতা চালু থাকবে। একইভাবে, যারা ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছেন, তাদের আবেদন বাতিল না হওয়া পর্যন্ত ভাতাপ্রদান অব্যাহত থাকবে।

সাবেক সরকারের লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পের তীব্র সমালোচনা করে মুখ্যমন্ত্রী দাবি করেন যে, পূর্ববর্তী সরকারের আমলে প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ছিল। তিনি বলেন, “পূর্ববর্তী সরকার ৫০০ টাকার প্রকল্পের কথা বলে যে তালিকা তৈরি করেছিল, তার ২ কোটির মধ্যে ১০ লক্ষ পুরুষ সুবিধাভোগী ছিল। এটি একটি বড় ধরনের অনিয়ম।” বর্তমান সরকার এই সমস্ত দুর্নীতি রোধ করে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই কাজ করছে। সব শেষে তিনি পুনরায় আবেদন জানান, কোনো ধরনের গুজব বা উদ্বেগে কান না দিয়ে প্রশাসনকে সময় দেওয়া হোক, যোগ্য ব্যক্তিরা নিশ্চিতভাবে তাঁদের প্রাপ্য সুবিধা পাবেন।