প্যালেস্তাইনকে পূর্ণ স্বীকৃতি! রাষ্ট্রসঙ্ঘে ঐতিহাসিক সুর চড়াল ভারত, মোদী সরকারের বড় ঘোষণা

দীর্ঘদিনের ইজরায়েল-প্যালেস্তাইন সংঘাতের অবসানে এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি ফেরাতে রাষ্ট্রসঙ্ঘে প্যালেস্তাইনকে পূর্ণ সদস্যপদ দেওয়ার পক্ষে জোরালো সওয়াল করল ভারত। বেলজিয়ামের ব্রাসেলসে আয়োজিত ‘প্যালেস্তাইন ডোনর গ্রুপ’-এর এক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকে ভারতের এই স্পষ্ট ও দৃঢ় অবস্থান সামনে আনলেন বিদেশ মন্ত্রকের অন্যতম সচিব শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে দু’টি স্বাধীন ও স্বীকৃত সীমান্তযুক্ত পৃথক রাষ্ট্র হিসেবে ইজরায়েল ও প্যালেস্তাইন গড়ে তোলাই হলো দীর্ঘস্থায়ী শান্তির একমাত্র পথ।

ব্রাসেলসের এই বৈঠকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। ভারতের প্রতিনিধি শ্রীপ্রিয়া রঙ্গনাথন বৈঠকে বলেন, ভারত ঐতিহাসিকভাবেই প্যালেস্তাইনের জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং বারবার ‘টু-স্টেট থিওরি’ বা দ্বিজাতি তত্ত্বকে সমর্থন জানিয়েছে। কেবল রাজনৈতিক সমর্থন নয়, প্যালেস্তাইনের মানবিক উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজেও ভারত সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি উল্লেখ করেন, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, নারীর ক্ষমতায়ন এবং বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের মতো চাহিদাকেন্দ্রিক প্রকল্পগুলোতে ভারত বড় আকারে বিনিয়োগ করছে এবং নতুন নতুন উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে।

সাম্প্রতিক সময়ে গাজা ও প্যালেস্তাইন বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে বিস্তর জলঘোলা হয়েছে। কংগ্রেসের সংসদীয় দলের চেয়ারপার্সন সনিয়া গান্ধী সম্প্রতি এক নিবন্ধে মোদী সরকারের নীরবতাকে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, প্যালেস্তাইন ও মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের দীর্ঘ ইতিহাস থাকা সত্ত্বেও, গাজায় ইজরায়েলি হামলার সময় ভারত যে ‘পাথরের মতো নীরবতা’ পালন করেছে, তা নৈতিকভাবে লজ্জাজনক। সনিয়া গান্ধীর মতে, এই নিষ্ক্রিয়তার সুযোগে পাকিস্তান মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের জায়গা তৈরি করে নিয়েছে, যা ভারতের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

তবে ব্রাসেলসের এই বৈঠকের মাধ্যমে নয়াদিল্লি নিজেদের অবস্থান স্পষ্ট করে বুঝিয়ে দিল যে, ভারত কেবল নীরব দর্শক নয়, বরং আন্তর্জাতিক মঞ্চে প্যালেস্তাইনের অধিকার ও সার্বভৌমত্বের পক্ষে সোচ্চার। বিদেশ মন্ত্রকের বিবৃতি অনুযায়ী, প্যালেস্তাইনের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বৃদ্ধি ও পুনর্বাসন প্রক্রিয়ায় ভারতের অংশগ্রহণ আগামী দিনে আরও নিবিড় হবে। রাষ্ট্রসঙ্ঘে সদস্যপদ প্রদানের বিষয়টি নিয়েও ভারত সরকার তাদের অবস্থান বজায় রেখেছে। সব মিলিয়ে, গাজার ভয়াবহ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ভারতের এই সক্রিয় কূটনৈতিক পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে তাৎপর্য তৈরি করেছে। বিশ্বমঞ্চে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ভারত যে কেবল নিজের স্বার্থ নয়, বরং আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ভারসাম্য রক্ষা ও মানবিক দায়বদ্ধতার দিকেও নজর রাখছে, তা ব্রাসেলসের এই ঘোষণায় আরও একবার প্রমাণিত হলো।