আপনার গাড়ির মাইলেজ কমছে? কী বললেন নিতিন গড়কড়ি, জেনে নিন আসল সত্যি

ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল বা E20 পেট্রোল ব্যবহারের ফলে গাড়ির মাইলেজ কমে যাচ্ছে—এমন অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সাধারণ গাড়ি ব্যবহারকারী থেকে শুরু করে বিশেষজ্ঞ, অনেকেই দাবি করেছেন যে এই জ্বালানি ব্যবহারের ফলে গাড়ির কার্যকারিতা ও মাইলেজে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কিন্তু এই অভিযোগকে সরাসরি নাকচ করে দিলেন কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহণ মন্ত্রী নিতিন গডকড়ী। তাঁর দাবি, সাধারণ মানুষের পক্ষে গাড়ির মাইলেজ নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব নয়।
সম্প্রতি একটি সাক্ষাৎকারে এবিপি নিউজের সাংবাদিক নিতিন গডকড়ীর সামনে অভিযোগ করেন যে, তাঁর গাড়িটি ২০২৩ সালে কেনার সময় প্রতি লিটারে ১১ কিলোমিটার মাইলেজ দিলেও, E20 পেট্রোল ব্যবহারের পর থেকে তা কমে ৭ কিলোমিটারে দাঁড়িয়েছে। এই অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, “কোনও তথ্য দেওয়ার আগে তা সম্পূর্ণভাবে জেনে বলা উচিত। ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলে গাড়ির ইঞ্জিন বা ওয়ারেন্টিতে কোনো সমস্যা হয় না।” গডকড়ীর মতে, গাড়ির প্রকৃত মাইলেজ বের করার জন্য যে অত্যাধুনিক মেশিনের প্রয়োজন হয়, তা সাধারণ মানুষের কাছে নেই। একমাত্র অথরাইজড ডিলার বা সার্ভিস স্টেশনেই সঠিক প্রযুক্তি রয়েছে, যার মাধ্যমে নিখুঁত গড় (average) বা মাইলেজ পরিমাপ করা সম্ভব। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, মেশিনে যদি মাইলেজের হিসাব কম আসে, তবেই তিনি তা মেনে নেবেন।
তবে গডকড়ীর এই বক্তব্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। কারণ, দেশের বহু গাড়ি চালক প্রচলিত পদ্ধতিতেই গাড়ির ড্যাশবোর্ড রিডিং বা ‘ফুল ট্যাঙ্ক টু ফুল ট্যাঙ্ক’ পদ্ধতিতে মাইলেজ হিসাব করেন। ট্রিপ মিটার রিসেট করে অতিক্রান্ত দূরত্বকে জ্বালানির পরিমাণ দিয়ে ভাগ করাই মাইলেজ নির্ণয়ের বহুল প্রচলিত ও স্বীকৃত নিয়ম। অথচ মন্ত্রী এই পদ্ধতিকেই পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন।
অন্যদিকে, গডকড়ীর মন্তব্যের ঠিক উল্টো ছবি দেখা গেছে খোদ কেন্দ্রের সরকারি তথ্যে। গত সপ্তাহেই কেন্দ্র স্বীকার করে নিয়েছে যে, ইথানল মিশ্রিত পেট্রোল ব্যবহারে কিছু গাড়ির মাইলেজে ৩ থেকে ৫ শতাংশ পর্যন্ত প্রভাব পড়তে পারে। কেন্দ্র প্রশ্নোত্তরের আকারে জ্বালানির কার্যকারিতা হ্রাস পাওয়ার কথা স্বীকার করলেও, মন্ত্রীর এই কঠোর অবস্থান সাধারণ গ্রাহকদের মনে বিভ্রান্তি বাড়িয়েছে।
ভবিষ্যতে ইথানল মিশ্রিত পেট্রোলের ব্যবহার বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছে ভারত সরকার। তবে সাধারণ মানুষের অভিজ্ঞতা বনাম সরকারি দাবির এই সংঘাত অব্যাহত। একদিকে যখন মুদ্রাস্ফীতির বাজারে জ্বালানির খরচ নিয়ে সাধারণ মানুষ চিন্তিত, তখন মাইলেজ নিয়ে মন্ত্রীর এই মন্তব্য নতুন করে চর্চার খোরাক জুগিয়েছে। এখন দেখার, প্রযুক্তিগত তথ্যের নিরিখে এই বিতর্ক কোনো স্থির সিদ্ধান্তে পৌঁছায় কি না।