আকাশপথে ‘চক্ষু’ ভারতের! প্রতিবেশী দেশের ওপর কড়া নজর রাখতে আসছে অত্যাধুনিক স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এয়ারশিপ

প্রতিরক্ষা ক্ষেত্রে আরও এক ধাপ এগিয়ে ভারত। আকাশপথে ২০ কিলোমিটার উচ্চতায় একটি অভিনব ‘তাঁবুর মতো’ নজরদারি ব্যবস্থা বা স্ট্র্যাটোস্ফেরিক এয়ারশিপ (Stratospheric Airship Project) মোতায়েন করতে চলেছে ভারত। এই প্রকল্পটি প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর নিরবচ্ছিন্ন নজরদারি এবং গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ হতে যাচ্ছে। প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকার এই উচ্চাভিলাষী প্রকল্পে বেসরকারি সংস্থাগুলোকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে, যা দেশের প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
এই প্রকল্পের মূল ভিত্তি হলো ‘এয়ারশিপ-ভিত্তিক হাই অল্টিটিউড সিউডো স্যাটেলাইট’ বা AS-HAPS। এই যানগুলো ২০ কিলোমিটারের চেয়েও বেশি উচ্চতায় একটানা কয়েক মাস আকাশে ভেসে থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে সক্ষম। এর কাজ হবে ড্রোন (যা ১২ কিলোমিটার পর্যন্ত ওড়ে) এবং নিম্ন কক্ষপথের স্যাটেলাইটগুলোর (৫০০-২০০০ কিমি) মাঝের অভাবনীয় শূন্যস্থান পূরণ করা। এটি ভূপৃষ্ঠের নেটওয়ার্ক থেকে স্যাটেলাইটে ডেটা আদান-প্রদানেও সাহায্য করবে।
ভারতীয় বিমান বাহিনীর (IAF) ডিরেক্টরেট অফ অপারেশনস (রিমোট) এই পুরো বিষয়টিকে পরিচালনা করছে। ‘মেক-১’ (Make I) ক্রয় প্রক্রিয়ার আওতায় সরকার এই প্রকল্পে গবেষণ ও উন্নয়ন ব্যয়ের ৭০ শতাংশ পর্যন্ত অর্থায়ন করবে, যা বেসরকারি কোম্পানিগুলোর জন্য এক বিশাল সুযোগ। ইতিমধ্যে বেশ কিছু অ্যারোস্পেস কোম্পানি এই প্রোটোটাইপ তৈরির দৌড়ে শামিল হয়েছে।
এরই মধ্যে ডিআরডিও (DRDO) এই প্রযুক্তির প্রাথমিক সাফল্য পেয়েছে। ২০২৫ সালের মে মাসে মধ্যপ্রদেশের আকাশে ডিআরডিও একটি এয়ারশিপকে ১৭ কিলোমিটার উচ্চতায় সফলভাবে উৎক্ষেপণ করেছিল। সেই ট্রায়াল থেকে প্রাপ্ত তথ্য পরবর্তী পর্যায়ের উন্নয়নের জন্য ব্যবহৃত হচ্ছে। রাডার, অপটিক্যাল সেন্সরসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা যন্ত্রপাতি বহনকারী এই এয়ারশিপগুলো কেবল নজরদারি নয়, ইলেকট্রনিক গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং দীর্ঘপাল্লার যোগাযোগের ক্ষেত্রেও ভারতকে অপ্রতিরোধ্য করে তুলবে। এখন অপেক্ষা কেবল বেসরকারি ও সরকারি যৌথ প্রচেষ্টার বাস্তব রূপায়ণের।