টলিউডের দুর্দিন কাটবে কি? ‘একুশে আইন’ ও ফেডারেশনের কড়াকড়িতে বড় সিদ্ধান্তের পথে নবান্ন

টলিউডের দীর্ঘদিনের টালমাটাল পরিস্থিতি এবং ‘ফেডারেশন অফ সিনে টেকনিশিয়ানস অ্যান্ড ওয়ার্কার্স অফ ইস্টার্ন ইন্ডিয়া’-এর কড়াকড়িতে দীর্ঘদিন ধরেই নাভিশ্বাস উঠছিল প্রযোজকদের। কাজের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সংখ্যক টেকনিশিয়ান নেওয়া, অভিনেতা-কলাকুশলীদের পারিশ্রমিক এবং শুটিংয়ের সময়সীমা নিয়ে তৈরি হওয়া অহেতুক জট অবশেষে কিছুটা হলেও শিথিল হওয়ার ইঙ্গিত মিলছে। সোমবার নন্দনে ফেডারেশনের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের আগে, তথ্য ও সংস্কৃতি দফতরের সচিব ডা. সৌমিত্র মোহন টলিউডের প্রথম সারির প্রযোজকদের সঙ্গে এক জরুরি বৈঠকে বসেন।

এ দিনের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন অতনু রায়চৌধুরী, অঞ্জন বসু, শতদীপ সাহা এবং ফিরদৌসল হাসান-সহ বিনোদন জগতের তাবড় প্রযোজকরা। বৈঠকে আলোচনার সুর ছিল যথেষ্ট ইতিবাচক। ‘টনিক’, ‘প্রজাপতি’ ও ‘প্রধান’-এর মতো সফল ছবির প্রযোজক অতনু রায়চৌধুরীর মতে, “উপযুক্ত ব্যক্তির হাতে উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সৌমিত্রবাবু সিনেমা ও টেলিভিশন জগৎ সম্পর্কে অত্যন্ত সচেতন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে আমরা যথেষ্ট আশাবাদী।”

বৈঠক সূত্রে জানা গিয়েছে, শুটিংয়ের সময়সীমা এবং পারিশ্রমিক সংক্রান্ত জটিলতা নিরসনে একটি বিশেষ কমিটি গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে তথ্য ও সংস্কৃতি দফতর। এই কমিটিতে ফেডারেশনের সদস্যদের পাশাপাশি ছোট ও বড় পর্দার প্রযোজকরাও থাকবেন। সবার সমন্বয়ে এই কমিটি আগামী দিনে টলিউডের কাজের পরিবেশ ঢেলে সাজাবে। অরোরা ফিল্মস কর্পোরেশনের অঞ্জন বসু জানিয়েছেন, ২৬টি গিল্ডের কাঠামো অক্ষুণ্ণ থাকলেও, ছবি তৈরির সঙ্গে যুক্ত ১৫টি গিল্ডকে ঢেলে সাজানো হবে। কোনো নির্বাচন নয়, বরং আলোচনার মাধ্যমেই উপযুক্ত প্রতিনিধি বেছে নেওয়া হবে।

এতদিন টলিউডের অন্দরে অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে অনেক ছবি নন্দনে জায়গা পেত না। আবার বিরোধী মতাদর্শের অভিনেতারাও অনেক সময় কাজের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতেন। সেই জটিলতা কাটিয়ে বাংলা বিনোদন দুনিয়াকে সঠিক পথে ফেরাতে মরিয়া সরকার। অতনু রায়চৌধুরী এই উদ্যোগের ভূয়সী প্রশংসা করে জানান, নতুন সরকারের টলিউডের উন্নতির প্রতি এই সদিচ্ছা দীর্ঘদিনের সমস্যার সমাধান করতে পারবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন। এই বৈঠকের পর থেকেই চলচ্চিত্র জগতের অন্দরে আশার আলো দেখছেন অনেকেই। সব পক্ষকে নিয়ে নতুন কমিটি গঠন হলে বাংলা ছবির জট পুরোপুরি কেটে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা করছেন প্রযোজক-পরিবেশকরা।