ভোটের আগেই ফাঁস প্রশান্ত কিশোরের রাজকীয় সম্পত্তির খতিয়ান! স্ত্রী-সহ মোট সম্পদ কত জানেন?

দেশের নির্বাচনী কৌশলী হিসেবে পরিচিত ‘ভোটগুরু’ প্রশান্ত কিশোর এখন নিজেই রাজনীতির ময়দানে। বাঙ্কিপুর বিধানসভা উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর ঘোষিত হলফনামা বর্তমানে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় পেশ করা হলফনামা থেকে জানা গিয়েছে, প্রশান্ত কিশোর এবং তাঁর স্ত্রী—এই দম্পতির মোট সম্পদের পরিমাণ ১৯৯ কোটি টাকার কাছাকাছি। এই বিপুল পরিমাণ আর্থিক তথ্য প্রকাশ্যে আসতেই জনমানসে কৌতূহল তুঙ্গে।
হলফনামার তথ্য অনুযায়ী, প্রশান্ত কিশোরের নিজস্ব ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ৯৬.০৬ কোটি টাকা। অন্যদিকে, তাঁর স্ত্রী ডা. জাহ্নবী দাসের ঘোষিত সম্পদের পরিমাণ ১০১.৯৩ কোটি টাকা। সব মিলিয়ে এই দম্পতির মোট ঘোষিত সম্পদের অঙ্ক ১৯৮ কোটি টাকারও বেশি। আগামী ৩০ জুলাই বাঙ্কিপুর উপনির্বাচনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে, তার আগেই প্রার্থীর এই বিশাল আর্থিক প্রতিপত্তি প্রকাশ্যে আসায় ভোটারদের মধ্যে আগ্রহ বেড়েছে।
নির্বাচনী নথিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রশান্ত কিশোরের অস্থাবর সম্পদের মূল্য প্রায় ২২ কোটি ১৯ লক্ষ টাকা। তবে তাঁর সম্পদের একটি সিংহভাগই বিনিয়োগ করা হয়েছে বিভিন্ন কর্পোরেট সংস্থায়। নথির তথ্য অনুযায়ী, তিনি ‘ভেদাস ভেঞ্চার্স প্রাইভেট লিমিটেড’-এর ১০০ শতাংশ মালিকানা ধরে রেখেছেন। এই একক কোম্পানির মূল্যই প্রায় ৯৫.২৬ কোটি টাকা বলে হলফনামায় দেখানো হয়েছে। অর্থাৎ, তাঁর অধিকাংশ টাকাই বর্তমানে বিভিন্ন সংস্থার ইক্যুইটি শেয়ারে আবদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।
শুধু কর্পোরেট বিনিয়োগ নয়, প্রশান্ত কিশোরের আর্থিক পোর্টফোলিওতে রয়েছে একাধিক ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিট (FD) এবং বিভিন্ন বাজারভিত্তিক বিনিয়োগ। এই দুই খাতে তাঁর বিনিয়োগের পরিমাণ ৭.৩৬ কোটিরও বেশি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, তাঁর মোট সম্পদের বড় অংশ ইক্যুইটি হোল্ডিংয়ে থাকায় এগুলি সরাসরি নগদ অর্থ বা ‘লিকুইড’ সম্পদ নয়। তবুও নির্বাচনের প্রাক্কালে এই স্বচ্ছ চিত্র ভোটারদের কাছে তাঁর আর্থিক সক্ষমতার এক স্পষ্ট প্রতিফলন তুলে ধরেছে।
অন্যদিকে, প্রশান্ত কিশোরের স্ত্রী ডা. জাহ্নবী দাসের অস্থাবর সম্পদের পরিমাণ ৮৯.৫১ কোটি টাকা, যা দম্পতির সম্মিলিত সম্পদকে ২০০ কোটির দোরগোড়ায় নিয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী, প্রতিটি প্রার্থীকে তাঁদের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ, দায়-দেনা এবং কোনো ফৌজদারি মামলা থাকলে তা হলফনামার মাধ্যমে প্রকাশ করতে হয়। সেই নিয়ম মেনেই প্রশান্ত কিশোরের এই হলফনামা সাধারণ মানুষের সামনে স্বচ্ছতা বজায় রেখেছে। তবে বাঙ্কিপুর উপনির্বাচনের মতো একটি গুরুত্বপূর্ণ লড়াইয়ে, রাজনৈতিক পরিচিতির পাশাপাশি এই আর্থিক তথ্যের প্রভাব ভোটারদের সিদ্ধান্তে কতটা পরিবর্তন আনে, তা দেখার জন্য ৩০ জুলাই পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।