এজবাস্টনের লড়াইয়ে কি ফিরবে পুরনো ছন্দ? কোহলি না রোহিত—কার ব্যাটে বিপন্ন ইংল্যান্ড?

টি-টোয়েন্টি সিরিজের তিক্ত হারের স্মৃতি পেছনে ফেলে এবার ওয়ান ডে সিরিজের চ্যালেঞ্জ সামলাতে তৈরি ভারত। আজ এজবাস্টনে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে সিরিজের প্রথম ম্যাচে নামছে মেন ইন ব্লু। স্বাভাবিকভাবেই আজকের এই হাই-ভোল্টেজ ম্যাচে ক্রিকেট প্রেমীদের নজর থাকবে দুই ব্যাটিং স্তম্ভ—বিরাট কোহলি এবং রোহিত শর্মার ওপর। দীর্ঘ বিরতির পর এবং চোট কাটিয়ে মাঠে ফিরছেন কিং কোহলি, অন্যদিকে আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ফর্ম ফিরে পাওয়া ‘হিটম্যান’ রোহিত শর্মাও আজকের ম্যাচে জ্বলে উঠতে মরিয়া। এজবাস্টনের মাঠটি অতীতে বহুবার ভারতীয় ব্যাটারদের সাফল্য উপহার দিয়েছে, তাই আজকের লড়াইয়েও বড় রানের প্রত্যাশায় সমর্থকরা।
এজবাস্টনের মাঠে পরিসংখ্যানের বিচারে রোহিত শর্মার রেকর্ড ঈর্ষণীয়। ওয়ান ডে ফর্ম্যাটে এই মাঠে তিনি মোট ৬টি ম্যাচ খেলেছেন এবং ব্যাটিং গড় প্রায় ৯০-এর কাছাকাছি (৮৯.৪০)। তাঁর সংগ্রহে রয়েছে ৪৪৭ রান। শুধু তাই নয়, এজবাস্টনের পিচে রোহিতের ব্যাট থেকে এসেছে তিনটি সেঞ্চুরি এবং একটি অর্ধশতরান। ২০১৩ চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে শুরু করে ২০১৯ বিশ্বকাপ—এই মাঠের প্রতিটি মুহূর্ত রোহিতকে সমৃদ্ধ করেছে। ২০১৯ বিশ্বকাপে এজবাস্টনে ইংল্যান্ড ও বাংলাদেশের বিরুদ্ধে তাঁর টানা সেঞ্চুরিগুলো এখনও ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় উজ্জ্বল।
অন্যদিকে, বিরাট কোহলির ক্ষেত্রেও এজবাস্টনের পরিসংখ্যান বেশ আকর্ষণীয়। এই মাঠে ৭টি ম্যাচে কোহলি মোট ৩৩৫ রান সংগ্রহ করেছেন। সবচেয়ে অবাক করার মতো বিষয় হলো তাঁর ব্যাটিং গড়—১১১.৬৬। যদিও সেঞ্চুরির নিরিখে তিনি রোহিতের থেকে পিছিয়ে রয়েছেন (মাত্র ১টি সেঞ্চুরি), তবুও তাঁর ধারাবাহিকতা ও ম্যাচে টিকে থাকার ক্ষমতা বিপক্ষের বোলারদের জন্য বরাবরই ভয়ের কারণ। ৩৭ ছুঁইছুঁই বিরাটের পাখির চোখ আগামী বছরের বিশ্বকাপ। সেই লক্ষ্য অর্জনে ইংল্যান্ডের মাটিতে এই সিরিজটি তাঁর জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
আজকের ম্যাচে বিরাটের প্রত্যাবর্তন এবং রোহিতের চেনা ছন্দ—দুইয়ে মিলে ভারতের ব্যাটিং লাইনআপকে কতটা শক্তিশালী করবে, তা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মধ্যে প্রবল কৌতূহল রয়েছে। ইংল্যান্ডের বাউন্সি উইকেটে তাদের পেস ব্যাটারিকে সামলে এই দুই অভিজ্ঞ ব্যাটার কীভাবে ইনিংস গঠন করেন, তা আজকের ফলাফলের ক্ষেত্রে নির্ণায়ক ভূমিকা পালন করবে। এজবাস্টনের এই মহারণ কি ভারতের জন্য জয় দিয়ে সিরিজের শুভ সূচনা বয়ে আনবে? নাকি ইংল্যান্ড তাদের ঘরের মাঠে আধিপত্য বজায় রাখবে? সেই উত্তরের অপেক্ষায় এখন ক্রিকেট বিশ্ব।