হরমুজে রণক্ষেত্র! ইরানি মিসাইল হামলায় নিহত ভারতীয় নাবিক, তীব্র উত্তেজনায় পারস্য উপসাগর

পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে নিরাপত্তা নিয়ে তৈরি হলো বড়সড় সংকট। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে ইরানি ক্রুজ মিসাইলের হামলায় প্রাণ হারালেন এক ভারতীয় নাবিক। শুধু তাই নয়, এই হামলায় আরও অন্তত ছয়জন ভারতীয় নাবিক গুরুতরভাবে আহত হয়েছেন, যাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছে ভারত সরকার। ইতিমধ্যেই দিল্লির তরফে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিককে তলব করে এই কাপুরুষোচিত হামলার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিবাদ জানানো হয়েছে।

সূত্রের খবর, সংযুক্ত আরব আমিরশাহির পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজকে লক্ষ্য করে ইরানি বাহিনী অতর্কিতে ক্রুজ মিসাইল ছোঁড়ে। হামলার সময় ওই জাহাজগুলিতে ভারতীয় নাবিক ছাড়াও বিভিন্ন দেশের কর্মীরা কর্তব্যরত ছিলেন। আচমকা এই মিসাইল হানায় জাহাজ দুটি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে নিহত নাবিকের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানানো হয়েছে এবং আহতদের সবরকম চিকিৎসার সহায়তা প্রদানের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে বিদেশ মন্ত্রক এবং ভারতীয় নৌবাহিনী গোটা পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, নিরীহ নাবিকদের নিশানা করে এই ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী এবং সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য। ইরানের চার্জ ডি অ্যাফেয়ার্সকে তলব করে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কড়া ভাষায় বার্তা দেওয়া হয়েছে। একইসঙ্গে, ভারত এই ঘটনার একটি বিস্তারিত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য তেহরানের ওপর চাপ তৈরি করেছে।

বিশ্বের অন্যতম প্রধান এই জলপথ, অর্থাৎ হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ তেল সরবরাহ হয়। ফলে, এই অঞ্চলে যেকোনো ধরনের অস্থিরতা বিশ্ব অর্থনীতিতে সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে ভারতের মতো তেল আমদানিকারক দেশগুলোর জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত সংবেদনশীল। বর্তমান পরিস্থিতিতে ভারত অন্যান্য ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলির সঙ্গেও কূটনৈতিক স্তরে নিরন্তর যোগাযোগ বজায় রাখছে। আন্তর্জাতিক জলপথে নৌচলাচলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ভারত যে কোনো ধরনের আপস করবে না, তা এই ঘটনার পর স্পষ্ট হয়ে গেল। ভারতীয় নাগরিকদের জীবনের নিরাপত্তা সবসময়ই সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারের তালিকায় রয়েছে। তেহরানের সঙ্গে দিল্লির এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন এখন পারস্য উপসাগরের ভূ-রাজনীতিকে এক অনিশ্চিত গন্তব্যের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।