ভারতের ওপর অগাধ আস্থা অস্ট্রেলিয়ার! ইউরেনিয়াম চুক্তিতে সিলমোহর দিয়ে ভারতকে ‘বিশ্বের ইতিবাচক শক্তি’ আখ্যা

নিউক্লিয়ার অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত সমস্ত জল্পনার অবসান ঘটিয়ে ভারতের ওপর নিজের গভীর আস্থার কথা পুনরায় পুনর্ব্যক্ত করল অস্ট্রেলিয়া। ইউরেনিয়াম সরবরাহ চুক্তির প্রসঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার এক মন্ত্রীর সাম্প্রতিক মন্তব্য দুই দেশের কৌশলগত সম্পর্কের ক্ষেত্রে এক নতুন মাত্রা যোগ করেছে। তিনি সরাসরি ভারতকে বিশ্বের একটি “ইতিবাচক শক্তি” (Global Force for Good) এবং দ্রুত বেড়ে চলা এক “উঠতি শক্তি” (Rising Power) হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন, যা আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

সম্প্রতি এক সাংবাদিক সম্মেলনে নিউক্লিয়ার অস্ত্র ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলে অস্ট্রেলীয় মন্ত্রী দৃঢ়কণ্ঠে ভারতের পাশে দাঁড়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দেন, অস্ট্রেলিয়া ভারতকে একটি অত্যন্ত দায়িত্বশীল রাষ্ট্র হিসেবে বিবেচনা করে। মন্ত্রীর কথায়, “ভারতের সঙ্গে আমাদের এই অংশীদারিত্ব শুধু বাণিজ্যিক চুক্তির গণ্ডিতে আবদ্ধ নয়; এটি দুই গণতান্ত্রিক দেশের মধ্যে পারস্পরিক আস্থা, মূল্যবোধ এবং সহযোগিতার এক অবিচ্ছেদ্য প্রতীক।” তাঁর এই মন্তব্যের পর নয়াদিল্লির কূটনৈতিক মহলে ব্যাপক ইতিবাচক সাড়া পড়েছে।

উল্লেখ্য যে, ২০১৪ সাল থেকে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে সিভিল নিউক্লিয়ার চুক্তি কার্যকর রয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ইউরেনিয়াম উৎপাদক দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়া ভারতকে এই জ্বালানি সরবরাহ করে আসছে। ভারতের বর্তমান ক্রমবর্ধমান জ্বালানি চাহিদা মেটাতে এবং দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোকে সচল রাখতে এই চুক্তি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পরিবেশবান্ধব ও পরিষ্কার জ্বালানির ব্যবহার বাড়িয়ে ২০৭০ সালের মধ্যে ভারতের ‘নেট জিরো’ লক্ষ্য পূরণে অস্ট্রেলিয়ার এই ইউরেনিয়াম জোগান এক অপরিহার্য ভূমিকা পালন করছে।

অস্ট্রেলিয়ান মন্ত্রী আরও গুরুত্ব দিয়ে বলেন, ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে শান্তি, স্থায়িত্ব এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা রক্ষা করার ক্ষেত্রে ভারত ও অস্ট্রেলিয়া কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, ভারতের মতো একটি দায়িত্বশীল দেশের হাতে এই ইউরেনিয়াম সম্পদ সম্পূর্ণ নিরাপদ। তিনি আশ্বস্ত করেছেন যে, এই চুক্তি কঠোর আন্তর্জাতিক নিয়মাবলী এবং সুরক্ষা প্রোটোকল মেনেই সম্পন্ন হচ্ছে। ভারত আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (IAEA)-এর সমস্ত নির্দেশিকা ও সুরক্ষা শর্তাবলী কঠোরভাবে মেনে চলছে, ফলে এই সম্পদ কোনোভাবেই অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত হওয়ার আশঙ্কা নেই।

ভারতের ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন এবং বিশ্ব অর্থনীতিতে দেশটির ক্রমবর্ধমান প্রভাবের কথা মাথায় রেখেই অস্ট্রেলিয়া তার এই পররাষ্ট্রনীতিকে আরও সুসংহত করেছে। মন্ত্রীর এই সুনির্দিষ্ট বার্তা শুধু জ্বালানি চুক্তিকেই মজবুত করল না, বরং দীর্ঘমেয়াদে ভারত-অস্ট্রেলিয়ার পারস্পরিক কৌশলগত সম্পর্ককে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দিল। দুই দেশের এই ক্রমবর্ধমান সহযোগিতা ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ স্থিতিশীল নিয়ামক হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশেষজ্ঞরা।