‘স্বাস্থ্যসাথীই সেরা!’ আয়ুষ্মান ভারত নিয়ে কেন্দ্রীয় প্রকল্পের কঠোর সমালোচনা কুণাল ঘোষের, তুঙ্গে রাজনৈতিক বিতর্ক

কেন্দ্রীয় সরকারের ফ্ল্যাগশিপ স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘আয়ুষ্মান ভারত’ নিয়ে ফের রাজনৈতিক তরজা তুঙ্গে। এবার এই ইস্যুতে সরাসরি কেন্দ্র ও বিজেপি নেতৃত্বাধীন সরকারকে নিশানা করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক তথা মুখপাত্র কুণাল ঘোষ। তাঁর দাবি, ‘আয়ুষ্মান ভারত’ প্রকল্প আসলে সাধারণ মানুষের জন্য নয়, বরং এই প্রকল্পের আড়ালে প্রচারের রাজনীতি চলছে। কুণাল ঘোষের স্পষ্ট বার্তা, পশ্চিমবঙ্গের নিজস্ব স্বাস্থ্য প্রকল্প ‘স্বাস্থ্যসাথী’র সাফল্যের ধারেকাছে নেই কেন্দ্রের এই প্রকল্প।
এদিন কুণাল ঘোষ সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তীব্র আক্রমণ শানান। তিনি বলেন, “আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প আদৌ সকলের জন্য উন্মুক্ত নয়। এই প্রকল্পে একাধিক শর্ত ও সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যা সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের সময় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। তুলনায় বাংলার স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প অনেক বেশি ব্যাপক এবং জনমুখী।” তাঁর কথায়, বিগত রাজ্য সরকারের আমলে চালু হওয়া স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প যে পর্যায়ে স্বাস্থ্য পরিষেবা পৌঁছে দিয়েছিল, কেন্দ্রীয় সরকার তাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “বিজেপি সরকার যদি সত্যিই মানুষের ভালো চায়, তবে স্বাস্থ্যসাথীকে কেন গুরুত্ব দিচ্ছে না? কেন তারা এই সফল মডেলকে ফিরিয়ে আনছে না?”
তৃণমূল নেতার অভিযোগ, পশ্চিমবঙ্গ সরকার কেন আলাদা করে নতুন মুখ্যমন্ত্রী স্বাস্থ্য বীমা যোজনা শুরু করতে বাধ্য হচ্ছে, তা নিয়ে বিজেপির অন্দরেই ধোঁয়াশা রয়েছে। তিনি আরও বলেন, “রাজ্য সরকার মানুষের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় দায়বদ্ধ বলেই নতুন পরিকল্পনা করছে। অথচ কেন্দ্রের আয়ুষ্মান ভারত প্রচারসর্বস্ব হয়ে পড়েছে।” এই প্রেক্ষাপটে রাজ্যের স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কাছেও কুণাল ঘোষ বিশেষ বিবৃতি দাবি করেছেন। তিনি মনে করেন, আয়ুষ্মান ভারতের অসংগতিগুলি এবং কেন রাজ্যকে পৃথক বীমা যোজনার পথে হাঁটতে হচ্ছে, তা স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বিস্তারিত জানানো প্রয়োজন।
কুণাল ঘোষের এই মন্তব্যের পর রাজনৈতিক মহলে নতুন করে শোরগোল পড়েছে। বিজেপির পাল্টা অভিযোগ, রাজ্যের স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্প নিয়ে বারবার অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে এবং সাধারণ মানুষ সময়মতো পরিষেবা পান না বলেই আয়ুষ্মান ভারতের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে। তবে তৃণমূল নেতৃত্ব এই দাবি সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে দাবি করছে, বিজেপি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে রাজ্যের প্রকল্পকে খাটো করার চেষ্টা করছে।
সামগ্রিকভাবে, আয়ুষ্মান ভারত বনাম স্বাস্থ্যসাথী—এই লড়াই এখন কেবল প্রশাসনিক বিতর্কে আটকে নেই, তা পুরোপুরি রাজনৈতিক রূপ নিয়েছে। বিশেষ করে, সামনেই বিভিন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্য পরিষেবার মতো সংবেদনশীল ইস্যুতে তৃণমূল ও বিজেপির এই বাকযুদ্ধ যে আরও তীব্র হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য। এখন রাজ্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী এই বিষয়ে কী বিবৃতি দেন এবং কেন্দ্রের পক্ষ থেকে কী প্রতিক্রিয়া আসে, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে বাংলার মানুষ।