একদিকে বেলঘরিয়ায় কুখ্যাত দুষ্কৃতী খুন, অন্যদিকে নিউটাউনে ২ কোটি টাকা উদ্ধার—চমকে দেওয়া কাণ্ডে তোলপাড় রাজ্য!

রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে ফের উঠল বড়সড় প্রশ্নচিহ্ন। একদিকে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের ধারে কুখ্যাত দুষ্কৃতীকে গুলি করে খুন, অন্যদিকে নিউটাউনের অভিজাত আবাসনে উদ্ধার হওয়া ২ কোটির বেশি টাকা—এই দুই ঘটনায় গতকাল রাত থেকেই রাজ্যজুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। একদিকে যখন গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের জেরে রক্ত ঝরছে, অন্যদিকে তখন সাইবার জালিয়াতি ও হাওয়ালার বিপুল কারবার নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে পুলিশের হাতে।

সোমবার ভোররাতে বেলঘরিয়া এক্সপ্রেসওয়ের পাশে গুলিবিদ্ধ দেহ উদ্ধার হওয়ার ঘটনায় এলাকায় শোক ও আতঙ্কের পরিবেশ তৈরি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে খবর, ভোররাতে দুষ্কৃতীরা এক ব্যক্তিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। এই ঘটনায় বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি তৃণমূল আশ্রিত দুষ্কৃতীদের দিকে আঙুল তোলা হয়েছে। তাদের দাবি, এলাকায় সিন্ডিকেটের দখলদারি এবং গোষ্ঠীকোন্দলের জেরেই এই খুন। দমদম থানার পুলিশ ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমে ৫ জনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে। খুনের পেছনে কী গভীর ষড়যন্ত্র রয়েছে, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

অন্যদিকে, নিউটাউনের একটি বিলাসবহুল ফ্ল্যাটে বিধাননগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, সাইবার ক্রাইম শাখা এবং টেকনোসিটি থানার যৌথ অভিযানে উদ্ধার হয়েছে ২ কোটিরও বেশি টাকা। সাইবার প্রতারণার একটি বড় মামলার তদন্তে নেমে পুলিশ ওই ফ্ল্যাটে হানা দেয়। ফ্ল্যাটের ভেতর থেকে নগদ টাকা গোনার মেশিন, ৪টি দামি গাড়ি এবং একটি স্কুটার বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এই ঘটনায় এক মহিলা-সহ মোট সাতজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ধৃতদের জিজ্ঞাসাবাদ করে পুলিশ জানতে পেরেছে, ওই ফ্ল্যাটটি ভাড়া নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে চলছিল হাওয়ালার মতো বেআইনি আর্থিক লেনদেনের কারবার।

এদিকে, উত্তর ২৪ পরগনার গোবরডাঙা পুরসভায় দেখা দিয়েছে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা। পুরসভার চেয়ারম্যান ও ভাইস চেয়ারম্যানের পদত্যাগের পর নতুন করে আরও ১০ জন কাউন্সিলর ইস্তফা দিয়েছেন। শুক্রবার চারজন এবং আজ আরও দশজন—সব মিলিয়ে মোট ১৪ জন তৃণমূল কাউন্সিলরের পদত্যাগে পুরসভা কার্যত অচল হওয়ার মুখে। পদত্যাগী কাউন্সিলরদের দাবি, ব্যক্তিগত কারণে এবং পুর পরিষেবা ঠিকঠাক দিতে না পারার কারণেই তারা এই পথ বেছে নিয়েছেন। তবে রাজনৈতিক মহলের মতে, তৃণমূলের অন্দরের দ্বন্দ্বই এই ইস্তফার মূল কারণ।

গোটা রাজ্যের পরিস্থিতি এখন গোয়েন্দাদের নজরদারির কেন্দ্রে। একদিকে বেলঘরিয়ার রাজনৈতিক খুনের কিনারা করা, অন্যদিকে নিউটাউনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া বিপুল পরিমাণ টাকার উৎস খুঁজে বের করা—সব মিলিয়ে রাজ্যের পুলিশ প্রশাসনের জন্য এখন বড় চ্যালেঞ্জ। অপরাধীদের জালে আনতে বিধাননগর কমিশনারেট ও দমদম পুলিশ কোনো কসুর করছে না। তবে একের পর এক এই ঘটনা সাধারণ মানুষের মনে রাজ্যের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে বড়সড় উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। পরবর্তী আইনি পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে গোটা রাজ্য।