নবান্নে বড় চমক! ৩৩ আইপিএস ও ডব্লিউবিপিএস আধিকারিকের রদবদল, বদল ঘটল গুরুত্বপূর্ণ পদে

রাজ্য প্রশাসনের অন্দরমহলে বড়সড় রদবদল করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার নবান্নের পক্ষ থেকে একটি উচ্চপর্যায়ের নির্দেশিকা জারি করে রাজ্য ও কলকাতা পুলিশের শীর্ষ স্তরে ব্যাপক পরিবর্তন আনা হয়েছে। মোট ৩৩ জন আইপিএস (IPS) এবং ডব্লিউবিপিএস (WBPS) পদমর্যাদার আধিকারিকের পদোন্নতি ও বদলির তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, যা প্রশাসনিক মহলে রীতিমতো আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। এই রদবদলের তালিকার প্রতিটি নাম অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ হলেও, সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে সামনে এসেছে সিআইডি (CID) প্রধানের পরিবর্তন।
দীর্ঘদিন ধরে সিআইডি-র এডিজি (ADG) হিসেবে দায়িত্ব সামলে আসা অত্যন্ত দক্ষ আইপিএস আধিকারিক সুপ্রতিম সরকারকে এই গুরুত্বপূর্ণ পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। তাঁর দীর্ঘ মেয়াদী কাজের ধারা এবং গোয়েন্দা বিভাগের ওপর তাঁর নিয়ন্ত্রণ প্রশাসনিক মহলে সুপরিচিত ছিল। তাঁকে সিআইডি থেকে সরিয়ে টেলিকমিউনিকেশন বিভাগের এডিজি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সুপ্রতিম সরকারের মতো একজন গুরুত্বপূর্ণ আধিকারিককে গোয়েন্দা প্রধানের পদ থেকে সরিয়ে কেন টেলিকমিউনিকেশন বিভাগে পাঠানো হলো, তা নিয়ে নবান্নের অন্দরে এবং পুলিশি মহলে জোর আলোচনা ও জল্পনা শুরু হয়েছে।
এই বিশাল রদবদল কেবল সিআইডি প্রধানের পদেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। কলকাতা পুলিশ এবং রাজ্য পুলিশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদেও নতুন মুখ আনা হয়েছে। দীর্ঘদিনের জমে থাকা কাজের চাপে এবং প্রশাসনিক কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর লক্ষ্যে এই রদবদল অপরিহার্য ছিল বলেই নবান্ন সূত্রে জানানো হয়েছে। বদলির এই তালিকায় থাকা ৩৩ জন আধিকারিকই রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মামলার তদন্তে বড় ভূমিকা পালন করে আসছেন। নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত আধিকারিকরা এখন নিজ নিজ ক্ষেত্রে কতটা প্রভাব ফেলতে পারেন, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে ওয়াকিবহাল মহল।
প্রশাসনিক বিশেষজ্ঞদের মতে, পঞ্চায়েত নির্বাচন বা রাজ্যের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা পরিস্থিতি যখন অত্যন্ত স্পর্শকাতর, তখন এই ধরনের রদবদল অত্যন্ত সাধারণ প্রক্রিয়া। তবে সিআইডি-র মতো একটি প্রধান তদন্তকারী সংস্থার এডিজি পদে রদবদল হওয়াটা বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত বহন করে। সিআইডি এই মুহূর্তে রাজ্যের বেশ কিছু হাই-প্রোফাইল মামলার তদন্ত করছে, তাই নতুন এডিজি কে হবেন এবং তিনি কীভাবে পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করবেন, তা নিয়ে কৌতুহল বাড়ছে।
পুলিশের শীর্ষ মহলে এই ব্যাপক রদবদল প্রশাসনিক কাজের স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে সরকারি সূত্রে দাবি করা হয়েছে। রাজ্য সরকারের এই সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সমস্ত আধিকারিকদের আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তী নির্বাচনের আগে প্রশাসনিক এই পুনর্বিন্যাস কতটা কার্যকর হয়, তা সময়ই বলবে। নবান্নের নির্দেশিকার পর এখন গোটা রাজ্য পুলিশ প্রশাসন নতুনের পথে হাঁটছে।