সেমিফাইনালের মহারণ, এমবাপ্পের গোল-মেশিন বনাম স্পেনের অভেদ্য দুর্গ!

বিশ্বকাপের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় এবং প্রতিযোগিতামূলক আসর এখন চূড়ান্ত উত্তেজনার পর্যায়ে। একশোরও বেশি ম্যাচের দীর্ঘ পথ পেরিয়ে শেষ চারে টিকে আছে কেবল চারটি দল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষ চারটি দল সেমিফাইনালে ওঠায় এবারের টুর্নামেন্টটি এক অনন্য ইতিহাসের সাক্ষী হতে চলেছে। ১৯৯২ সালে র‍্যাঙ্কিং পদ্ধতি চালু হওয়ার পর এমন ঘটনা আগে কখনও ঘটেনি। কাকতালীয়ভাবে, এই চারটি দলই সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন, যারা প্রত্যেকেই শিরোপার স্বপ্নে বিভোর।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় রাত ১টায় ডালাসের মাঠে প্রথম সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে দুই ইউরোপীয় পরাশক্তি—ফ্রান্স ও স্পেন। গত আসরের ফাইনালিস্ট ফ্রান্স এবারের টুর্নামেন্টে অপ্রতিরোধ্য। ছয় ম্যাচে ছয়টিতেই জয়ী কিলিয়ান এমবাপ্পের দল গোলবন্যার মাধ্যমে প্রতিপক্ষের ত্রাস হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমবাপ্পের ৮ গোল এবং উসমান দেম্বেলের ৫ গোলের পাশাপাশি মাইকেল ওলিসের অসাধারণ প্লে-মেকিং ফ্রান্সকে করেছে অজেয়। রক্ষণভাগেও তারা দারুণভাবে সফল, নকআউট পর্বে একটি গোলও হজম করেনি দিদিয়ের দেশমের শিষ্যরা।

অন্যদিকে, স্পেনের যাত্রা অমসৃণ হলেও তারা মানসিকভাবে দারুণ শক্তিশালী। গোল পেতে বেগ পেতে হলেও টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত মাত্র একটি গোল হজম করা স্পেনের জমাট রক্ষণভাগ যেকোনো আক্রমণভাগের জন্য দুঃস্বপ্ন। পর্তুগাল ও বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তে জয় ছিনিয়ে আনা স্পেন ২০১০ সালের পর আবারও সেমিফাইনালে উঠেছে। স্পেনের রক্ষণের মূল শক্তি ও মিকেল মেরিনোর মতো খেলোয়াড়দের স্নায়ুচাপ সামলানোর ক্ষমতা ফ্রান্সের অজেয় আক্রমণভাগের বিরুদ্ধে বড় পরীক্ষা নেবে।

ফ্রান্সের শক্তির জায়গা তাদের আক্রমণভাগ এবং বেঞ্চের গভীরতা। এমবাপ্পে, দেম্বেলে ও বার্কোলার মতো বিশ্বমানের ফিনিশারদের ওলিসের বুদ্ধিদীপ্ত পাসগুলো প্রতিপক্ষের রক্ষণ ভেঙে চুরমার করে দেয়। সেই সঙ্গে ম্যানচেস্টার সিটি বা লিভারপুলের মতো ক্লাবের তারকাদের বেঞ্চে বসিয়ে রাখার বিলাসিতা প্রদর্শন করছে ফ্রান্স, যা যেকোনো সময় ম্যাচের ভাগ্য বদলে দিতে সক্ষম।

কোচ দিদিয়ের দেশম তার অভিজ্ঞতা ও রণকৌশল দিয়ে দলটিকে এমন এক ইউনিটে পরিণত করেছেন, যা হারানো প্রায় অসম্ভব। তবে ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা। স্পেনের রক্ষণ যদি ফ্রান্সের গতির ঝড়ের বিপরীতে অটল থাকতে পারে, তবে ডালাসের এই সেমিফাইনাল হয়ে উঠতে পারে মহাকাব্যিক। এমবাপ্পের গোল্ডেন বুট জয়ের নেশা বনাম স্পেনের অদম্য জেদ—সব মিলিয়ে দর্শকরা অপেক্ষা করছেন এক শ্বাসরুদ্ধকর ফুটবল যুদ্ধের। ইতিহাসের পাতায় কোন দল ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে, তা জানার জন্য ফুটবল বিশ্ব এখন অধীর অপেক্ষায়।