রাজ্যসভায় ইতিহাস গড়ার পথে বিজেপি! তিন তৃণমূল দলত্যাগীকে প্রার্থী করায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার দোরগোড়ায় মোদী সরকার

পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যসভার তিনটি আসনে উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে জাতীয় রাজনীতিতে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেওয়া সুখেন্দুশেখর রায়, প্রকাশ চিক বরাইক এবং সুস্মিতা দেবকেই ওই তিন আসনে প্রার্থী করেছে বিজেপি। বিরোধী দলগুলি প্রার্থী না দেওয়ায় এই তিন নেতার জয় কার্যত নিশ্চিত বলেই মনে করা হচ্ছে। এই তিন আসনের জয়ের মাধ্যমেই রাজ্যসভায় নিজেদের ইতিহাসে সর্বোচ্চ আসন সংখ্যা ১১৭-তে পৌঁছাতে চলেছে বিজেপি।
বিধানসভা নির্বাচনের পরবর্তী সময়ে তৃণমূল কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ কোন্দল ও দলত্যাগের যে ধারা শুরু হয়েছিল, তা যে রাজ্যসভার অংককেও প্রভাবিত করেছে, তা বলাই বাহুল্য। তৃণমূলের তিন সাংসদের পদত্যাগ এবং পরবর্তী সময়ে বিজেপিতে যোগদান এই উপনির্বাচনের পথ প্রশস্ত করেছে। তৃণমূল বর্তমানে এতটাই বিপর্যস্ত যে তারা প্রার্থী দেওয়ার মতো পরিস্থিতিতেও নেই।
২৪৫ আসনের রাজ্যসভায় নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১২৩টি আসন। ১১৭টি আসন নিশ্চিত হওয়ার পর বিজেপি সেই লক্ষ্যমাত্রার থেকে মাত্র ছয়টি আসন দূরে থাকবে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, প্রায় চার দশক পরে রাজ্যসভায় কোনো দল এমন শক্তিশালী অবস্থানে পৌঁছাতে চলেছে। এর আগে ১৯৮৬ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কংগ্রেস এই রেকর্ড গড়েছিল। বর্তমানে এনডিএ জোটের সম্মিলিত শক্তি ১৫২-তে উন্নীত হবে, যা রাজ্যসভায় তাদের আধিপত্যকে আরও সুসংহত করবে।
তবে সংবিধান সংশোধনীর জন্য প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা বা ১৬৪ জন সাংসদের সমর্থন পেতে বিজেপির আরও ১২ জন সাংসদের প্রয়োজন। তাই এখনই সংবিধান সংশোধনের পথে না হাঁটলেও, উচ্চকক্ষে বিজেপির প্রভাব যে অপ্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠছে, তা হলফ করেই বলা যায়।
রাঘব চাড্ডার নেতৃত্বে আপ সাংসদদের বিজেপিতে যোগদান, মধ্যপ্রদেশে কংগ্রেসের প্রার্থী বাতিল এবং ঝাড়খণ্ডে ক্রস ভোটিংয়ের জয়—এই প্রতিটি ঘটনাই রাজ্যসভার সমীকরণ বদলে দিয়েছে। তৃণমূলের দুর্গ হিসেবে পরিচিত বাংলায় তিন সাংসদের এই দলত্যাগ এবং পুনরায় বিজেপির প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পাওয়ার বিষয়টি শুধুমাত্র একটি নির্বাচনী উপনির্বাচন নয়, বরং এটি ভারতের সংসদীয় রাজনীতির একটি বড় পট পরিবর্তনের ইঙ্গিতবাহী। নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক মহলে এখন এই প্রশ্নই জোরালো হচ্ছে যে, রাজ্যসভার এই নতুন শক্তি বিন্যাস আগামী দিনে মোদী সরকারের নীতি নির্ধারণে কতটা প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করবে।