ধূপগুড়িতে প্রশাসনের বড়সড় উচ্ছেদ অভিযান! বুলডোজারের দাপটে গুঁড়িয়ে গেল অবৈধ ঝুপড়ি

দীর্ঘদিনের জল্পনা আর আইনি নোটিশের পর অবশেষে ধূপগুড়ি সুপার মার্কেট চত্বরে সরকারি জমি দখলমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নিল প্রশাসন। মঙ্গলবার সকাল থেকেই ধূপগুড়ি সুপার মার্কেট এলাকায় বিশাল পুলিশ বাহিনী নিয়ে উপস্থিত হন প্রশাসনিক কর্তারা। সঙ্গে ছিল প্রশাসনের বুলডোজার। মুহূর্তের মধ্যে সুপার মার্কেট চত্বরে সরকারি জমিতে গড়ে ওঠা অসংখ্য অবৈধ ঝুপড়ি এবং অস্থায়ী দোকান বুলডোজার দিয়ে ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
জানা গেছে, ধূপগুড়ি সুপার মার্কেটের সরকারি জমি বছরের পর বছর ধরে বেদখল হয়ে ছিল। সরকারি এই জমি দখল করে বহু মানুষ অস্থায়ী দোকানঘর ও ঝুপড়ি তৈরি করে ব্যবসা চালাচ্ছিলেন, যার ফলে এলাকায় যানজটসহ নানা সমস্যা তৈরি হচ্ছিল। প্রশাসনের দাবি, এই বেআইনি জবরদখলকারীদের এলাকা ছাড়ার জন্য গত ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিশ দেওয়া হয়েছিল। সেই নোটিশে নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল জমি খালি করার জন্য। কিন্তু প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, সেই সময়সীমা অতিক্রান্ত হওয়ার পরেও অনেক দখলদার তাঁদের জায়গা খালি করেননি। এমনকি অনেকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের নির্দেশকে অবজ্ঞা করার অভিযোগও উঠেছে।
শেষ পর্যন্ত কোনো বিকল্প ব্যবস্থা না দেখে মঙ্গলবার প্রশাসন উচ্ছেদ অভিযানে নামে। এদিনের অভিযানে পুলিশ প্রশাসনের উপস্থিতিতে বুলডোজার চালিয়ে সমস্ত অবৈধ কাঠামো ভেঙে ফেলা হয়। দীর্ঘদিনের এই জবরদখল উচ্ছেদের ফলে সুপার মার্কেট চত্বর এখন অনেকটাই দখলমুক্ত হয়েছে বলে প্রশাসনের তরফে দাবি করা হয়েছে। সাধারণ মানুষ প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানালেও, উচ্ছেদ হওয়া দোকানদারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা।
প্রশাসনের তরফ থেকে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, জনস্বার্থ এবং সরকারি জমি উদ্ধার করাই এই অভিযানের মূল লক্ষ্য। ভবিষ্যতে যাতে ফের কেউ সরকারি জমি দখল করতে না পারে, সেজন্য এলাকায় কড়া নজরদারি রাখা হবে। সুপার মার্কেট চত্বরের যানজট নিরসন এবং পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার স্বার্থেই এই অভিযান জারি থাকবে বলে জানিয়েছেন আধিকারিকরা। উচ্ছেদের পর চত্বরটি দ্রুত পরিষ্কার করে সরকারি কাজে ব্যবহারের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। এদিন উচ্ছেদ অভিযানকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই এলাকা ছিল সরগরম। কোনো রকম বড় ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে মোতায়েন ছিল পর্যাপ্ত পুলিশ বাহিনী।