তৃণমূল জমানার অবসানেই কি এই রদবদল? কলেজ স্কোয়ারের নতুন চেয়ারম্যান শমীক ভট্টাচার্য, সুরুচি সামলাবেন সৌরভ

রাজ্যে ক্ষমতার পট পরিবর্তনের প্রভাব যে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর মণ্ডপেও পড়বে, তা যেন এখন দিনের আলোর মতো পরিষ্কার। তৃণমূল জমানার দুই অত্যন্ত প্রভাবশালী মুখ অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের হাত থেকে কলকাতা ও রাজ্যের নামী পুজো কমিটিগুলোর কর্তৃত্ব একে একে সরে যাচ্ছে। সুরুচি সংঘের পর এবার কলকাতার ঐতিহ্যবাহী দুর্গাপুজো কমিটিগুলোর অন্যতম—কলেজ স্কোয়ার সর্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির নেতৃত্বেও এল এক বড়সড় পরিবর্তন।

দীর্ঘদিন ধরে চলা রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক সমীকরণের বদলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখেই কলেজ স্কোয়ারের পুজোর নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য। কমিটির অন্যতম উদ্যোক্তা বিকাশ মজুমদার জানিয়েছেন, শমীক ভট্টাচার্য এই গুরুদায়িত্ব গ্রহণ করতে সম্মতি দিয়েছেন। আগামী ১৬ জুলাই, রথের দিন খুঁটি পুজোর মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ভাবে শমীক ভট্টাচার্যের নেতৃত্বেই শুরু হবে কলেজ স্কোয়ারের এ বছরের শারদীয়া উৎসবের প্রস্তুতি।

একইভাবে দক্ষিণ কলকাতার নামী পুজো ‘সুরুচি সংঘ’-এর খোলনলচে বদলে ফেলা হয়েছে। অতীতে যে পুজো কমিটির নাম অরূপ বিশ্বাস ও স্বরূপ বিশ্বাসের সঙ্গে সমার্থক ছিল, সেখান থেকে তাঁদের নাম কার্যত মুছে গিয়ে এখন সম্পাদক পদে বসেছেন দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদার। স্বরূপ বিশ্বাসের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ এবং অরূপ বিশ্বাসের পুলিশের তলবে জেরবার হওয়ার প্রেক্ষিতে এই রদবদলকে ঘিরে রাজনৈতিক মহলে চলছে তীব্র জল্পনা।

পুজোর উদ্যোক্তারা অবশ্য এই পরিবর্তনকে প্রশাসনিক গতির সঙ্গে মিলিয়ে দেখার চেষ্টা করছেন। কিন্তু ওয়াকিবহাল মহল মনে করছে, কলকাতার দুটি জনপ্রিয় পুজো কমিটির শীর্ষ পদে বিজেপি নেতাদের এই অন্তর্ভুক্তি কেবল বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয়। বরং রাজ্যের রাজনৈতিক পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্বেও যে গেরুয়া শিবিরের আধিপত্য বাড়ছে, এই ঘটনাগুলি তারই স্পষ্ট ইঙ্গিত।

সাংস্কৃতিক বা ধর্মীয় উৎসবের আড়ালে রাজনীতি প্রবেশের বিতর্ককে ছাপিয়ে এই বদলগুলো এখন কলকাতার পুজোর নতুন সমীকরণ তৈরি করেছে। বড় দুটি পুজো কমিটির কর্তৃত্বে এই আমূল পরিবর্তন আসন্ন দুর্গাপুজোয় এক নতুন মাত্রা যোগ করতে চলেছে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। পুজো প্রেমীদের কাছে এখন দেখার বিষয়, নতুন নেতৃত্বের তত্ত্বাবধানে সুরুচি সংঘ ও কলেজ স্কোয়ারের এই ঐতিহ্যবাহী পুজো কতটা জৌলুস ধরে রাখতে পারে।