সুরুচি সংঘে ‘পদ্ম’ ফুটল! অরূপ-স্বরূপ জমানার অবসান, পুজো উদ্বোধনে কি আসছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু?

কলকাতার দুর্গাপুজোর মানচিত্রে ‘সুরুচি সংঘ’ বরাবরই এক অন্যতম উজ্জ্বল নাম। কিন্তু এবারের পুজোয় যেন এক আমূল পরিবর্তনের হাওয়া বইছে দক্ষিণ কলকাতার এই পুজো মণ্ডপকে ঘিরে। দীর্ঘদিনের ‘বিশ্বাস’ পরিবারের দাপট সরিয়ে এবছর সুরুচি সংঘের পুজোর প্রস্তুতিতে স্পষ্টভাবে দেখা মিলল ‘পদ্ম’ ছাপের। সম্প্রতি প্রকাশিত পুজোর খুঁটি পুজোর আমন্ত্রণ পত্রটি ঘিরেই এখন রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। সেই আমন্ত্রণ পত্রে মা দুর্গার আরাধনার অনুষঙ্গ হিসেবে পদ্ম ফুল ও পদ্মপাতার আলপনা ব্যবহার করা হয়েছে, যা রাজনৈতিক মহলের একাংশের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।
২০২৬ বিধানসভা নির্বাচনের পর রাজ্যের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলেছে। টালিগঞ্জ কেন্দ্রে অরূপ বিশ্বাসের পরাজয় এবং স্বরূপ বিশ্বাসের গ্রেফতারির পর থেকেই সুরুচি সংঘের অন্দরে এক প্রকার অচলাবস্থা তৈরি হয়েছিল। সেই ধূসর অধ্যায় কাটিয়ে এবার নতুন পরিচালন সমিতি গঠন করা হয়েছে। জৌলুস কমবে কি? এমন আশঙ্কার বিপরীতে দাঁড়িয়ে সূত্রের খবর, গত বছরের তুলনায় এবারের পুজোর বাজেট আরও বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
সবচেয়ে বড় চমক লুকিয়ে রয়েছে পুজো উদ্বোধনের তালিকায়। শোনা যাচ্ছে, চলতি বছরে হাতে গোনা কয়েকটি পুজোর উদ্বোধন করবেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, যার মধ্যে সুরুচি সংঘের নাম রয়েছে প্রথম সারিতে। ইতিমধ্যেই মুখ্যমন্ত্রীর কাছে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে এবং প্রাথমিক পর্যায়ে তিনি উদ্বোধনে সম্মতিও দিয়েছেন বলে খবর।
আমন্ত্রণ পত্রে রাজনৈতিক প্রভাবের ছাপও স্পষ্ট। অরূপ-স্বরূপ বিশ্বাসের অনুপস্থিতিতে এবারের খুঁটি পুজোয় আমন্ত্রিতদের তালিকায় দেখা গেছে বিজেপি সমর্থক আইনজীবী বিকাশ সিং, অতিরিক্ত অ্যাডভোকেট জেনারেল বিল্বদল ভট্টাচার্য এবং দমদম উত্তরের বিজেপি বিধায়ক সৌরভ শিকদারকে। অর্থাৎ, সুরুচি সংঘের পুজোর প্রশাসনিক ও পরিচালন ক্ষমতা এখন পুরোপুরি নতুন নেতৃত্বের হাতে, যেখানে গেরুয়া শিবিরের ছোঁয়া স্পষ্ট। অরূপ-স্বরূপ পরবর্তী সুরুচি সংঘের এই নতুন অবতার দেখার জন্য ইতিমধ্যেই কৌতুহল দানা বাঁধতে শুরু করেছে। রথের দিন সকাল সাড়ে ৯টায় খুঁটি পুজোর মাধ্যমেই দুর্গাপুজোর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করতে চলেছে এই ক্লাব। সব মিলিয়ে, অরূপ-স্বরূপহীন সুরুচি সংঘ যে এবছর নতুন আঙ্গিকে হাজির হতে চলেছে, তা বলাই বাহুল্য।