কাজিরাঙায় পর্যটকদের ঢল! হাই-প্রোফাইল সফরের জাদুতে ভেঙে চুরমার সব রেকর্ড, আসছে তাজ ও হায়াত হোটেল

পর্যটন মানচিত্রে ফের নতুন ইতিহাস গড়ল অসমের কাজিরাঙা ন্যাশনাল পার্ক ও টাইগার রিজার্ভ। সোমবার রাজ্যের মন্ত্রী অতুল বোরা জানিয়েছেন, এ বছর কাজিরাঙায় পর্যটকদের আনাগোনা সমস্ত পূর্ববর্তী রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে। মন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং ভুটানের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের মতো বিশ্ববরেণ্য ব্যক্তিত্বদের কাজিরাঙা সফর এই পার্কের প্রতি আন্তর্জাতিক আগ্রহকে বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

রেকর্ড ভাঙা পরিসংখ্যান
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, পর্যটন বর্ষ ২০২৫-২৬-এ এক অভূতপূর্ব সাড়া মিলেছে। ১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ২৮ মে ২০২৬ পর্যন্ত কাজিরাঙায় মোট ৫ লক্ষ ৪৮ হাজার ৩১৯ জন পর্যটক পা রেখেছেন, যার মধ্যে ৩২ হাজার ৭৬৫ জন বিদেশি পর্যটক। যেখানে ২০১৬-১৭ সালে পর্যটকের সংখ্যা ছিল ১ লক্ষ ৫৫ হাজার ১০৭, সেখানে মাত্র কয়েক বছরে এই বিপুল বৃদ্ধি এক বিস্ময়কর মাইলফলক।

পরিকাঠামো উন্নয়নে নজর
বিপুল সংখ্যক পর্যটকদের থাকা-খাওয়ার মানোন্নয়নে সরকার কোমর বেঁধে নেমেছে। মন্ত্রী অতুল বোরা জানান, পর্যটকদের বিশ্বমানের আতিথ্য প্রদানের জন্য অসম সরকার দুটি হাই-প্রোফাইল হোটেল—একটি ‘হায়াত’ (Hyatt) এবং অন্যটি ‘তাজ’ (Taj) তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর পাশাপাশি, পর্যটকদের অভিজ্ঞতা আরও সমৃদ্ধ করতে মুখ্যমন্ত্রী কর্তৃক উদ্বোধন করা ‘আন্তর্জাতিক অর্কিড পার্ক’ ইতিমধ্যেই অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া শ্রম কল্যাণ দপ্তরের মাধ্যমে রাজ্যের চা বাগানগুলিতে তিনটি অত্যাধুনিক ‘টি-মিউজিয়াম’ তৈরির পরিকল্পনাও গ্রহণ করা হয়েছে।

নতুন আকর্ষণ ও স্থানীয় অর্থনীতি
কাজিরাঙা শুধুমাত্র গণ্ডার দেখার কেন্দ্র নয়, বরং পর্যটকদের জন্য নতুন নতুন বৈচিত্র্য এনেছে পার্ক কর্তৃপক্ষ। পানবাড়িতে বার্ড সাফারি, কোহোরাতে সাইক্লিং এবং বিশ্বনাথে জিপ ও বোট সাফারির মতো উদ্যোগ পর্যটকদের মনে দাগ কেটেছে। ‘কাজিরাঙা বিয়ন্ড ন্যাশনাল পার্ক’ কর্মসূচি এবং স্থানীয়দের পরিচালিত ইকো-শপ বা হেমতাপ হিলে ট্রেকিং-এর মতো উদ্যোগ শুধুমাত্র পর্যটনই বাড়াচ্ছে না, বরং এটি সরাসরি স্থানীয় অর্থনীতিকে চাঙ্গা করে তুলেছে। সরকারের এই বহুমুখী পরিকল্পনা কাজিরাঙাকে বিশ্ব পর্যটন মানচিত্রে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।