বিজেপিতে ‘তৃণমূলী’দের জয়জয়কার! তিন প্রাক্তন সাংসদকে রাজ্যসভার টিকিট দেওয়ায় অস্বস্তিতে পদ্ম শিবির

দলবদলু নেতাদের হাতেই কি দলের ভবিষ্যৎ? সম্প্রতি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রাক্তন রাজ্যসভার সাংসদ সুখেন্দু শেখর রায়, সুস্মিতা দেব এবং প্রকাশ চিক বরাইককে বিজেপিতে যোগদান করানোর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই রাজ্যসভার প্রার্থী ঘোষণা করেছে গেরুয়া শিবির। এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে বিজেপির অন্দরেই শুরু হয়েছে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তোষ। দীর্ঘদিনের নিষ্ঠাবান কর্মীদের উপেক্ষা করে ‘বহিরাগত’ ও সদ্য দলবদলুদের এমন দ্রুত গুরুত্ব দেওয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন খোদ দলেরই অনেক নেতা।

এই বিতর্কের আবহেই সোমবার দলের অবস্থান স্পষ্ট করতে গিয়ে রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেন, “বিজেপির তৃণমূলীকরণ হবে না। তৃণমূলের সঙ্গে আলোচনা করার কিছু নেই, দলটি এখন নির্মূল হওয়ার পথে।” অন্যদিকে, পঞ্চায়েতমন্ত্রী দিলীপ ঘোষের কণ্ঠে ভিন্ন সুর। তিনি বলেন, “ভারতবর্ষে বিজেপি যোগ্যদের সঙ্গে নিয়েই বড় হয়েছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপই নেওয়া হয়েছে।”

বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা এই তিন নেতাকে নিয়ে অস্বস্তি বাড়ছে কারণ, কিছুদিন আগেই বিজেপি সাংসদ সুকান্ত মজুমদার এবং মনোজ টিগ্গা প্রকাশ চিক বরাইকের বিরুদ্ধে গরু পাচার ও দুর্নীতির মতো গুরুতর অভিযোগ তুলে গ্রেফতারির দাবি জানিয়েছিলেন। অথচ আজ তাঁরাই বিজেপির কাছে ‘গুণীজন’। শমীক ভট্টাচার্য স্পষ্ট করেছেন, “এঁদের নামের আগে ‘তৃণমূলী’ শব্দ ব্যবহার করা চলবে না, এঁরা এখন বিজেপি কর্মী।”

তবে এই সাফাই মানতে নারাজ দলের প্রাক্তন বিধায়ক নিখিলরঞ্জন দে। তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন, “বিজেপির মধ্যে কি যোগ্য, শিক্ষিত বা আদর্শবান নেতৃত্ব ছিল না, যাঁদের রাজ্যসভার সাংসদ করা যেত?” রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা বাড়াতে বিজেপি এখন ‘শর্টকাট’ নীতি অবলম্বন করছে। কিন্তু এই কৌশল তৃণমূলের প্রাক্তনদের ক্ষমতায় বসিয়ে আদৌ দলকে মজবুত করবে, নাকি দলের ভিতরের ক্ষোভকে উসকে দেবে, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। সোমবার মুখ্যমন্ত্রী ও রাজ্য সভাপতির উপস্থিতিতে এই তিন নেতা মনোনয়ন জমা দিলেও, দলীয় কর্মীদের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ আগামী দিনে নতুন কোনো ভাঙনের ইঙ্গিত দিচ্ছে কি না, তা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।