সংসদের অন্দরে নতুন সমীকরণ! বাদল অধিবেশনের আগেই বড় চমক, এনসিপিআই-এর নেতা সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়

সংসদের বাদল অধিবেশন শুরুর প্রাক্কালেই দিল্লির রাজনীতিতে এল বড়সড় রদবদল। তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে ‘ন্যাশনালিস্ট সিটিজেন্স পার্টি অফ ইন্ডিয়া’ (NCPI)-তে যোগ দেওয়া ২০ জন বিদ্রোহী সাংসদ এবার পেতে চলেছেন আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি। এনসিপিআই সূত্র মারফত জানা গেছে, আগামী ২০ জুলাই শুরু হতে চলা সংসদের বাদল অধিবেশনের আগেই লোকসভায় এই নতুন শিবিরের সাংসদ হিসেবে তাঁরা সিলমোহর পেতে চলেছেন। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে সংসদের অন্দরে তৃণমূলের জন্য তৈরি হলো এক নতুন ও বড় চ্যালেঞ্জ।
দলের অভ্যন্তরীণ সূত্র থেকে প্রাপ্ত খবর অনুযায়ী, এনসিপিআই-এর সংসদীয় নেতৃত্বে একগুচ্ছ গুরুত্বপূর্ণ পদ ঘোষণা করা হয়েছে। লোকসভায় এনসিপিআই দলের নেতা হিসেবে দায়িত্ব নিতে চলেছেন অভিজ্ঞ সাংসদ সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়। ডেপুটি লিডার হিসেবে মনোনীত হয়েছেন শতাব্দী রায় এবং মুখ্য সচেতকের ভূমিকায় দেখা যাবে কাকলি ঘোষ দস্তিদারকে। এই নতুন পদবিন্যাস নিয়ে ইতিমধ্যে দিল্লির রাজনৈতিক মহলে জোর চর্চা শুরু হয়েছে।
সূত্রের খবর, এই গোটা প্রক্রিয়ার আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায় এবং কাকলি ঘোষ দস্তিদার ইতিমধ্যে দিল্লিতে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা এবং কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। সংসদের বাদল অধিবেশন শুরু হওয়ার আগে এই বৈঠক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতাসম্পন্ন সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়কে নেতা হিসেবে বেছে নিয়ে এনসিপিআই লোকসভায় নিজেদের অবস্থান আরও সুদৃঢ় করতে চাইছে।
প্রসঙ্গত, বিধানসভা নির্বাচনের পর তৃণমূলের অন্দরে যে বিদ্রোহের সুর দানা বেঁধেছিল, তা চূড়ান্ত রূপ নেয় যখন ২০ জন সাংসদ আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূলের মূলস্রোত থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে এনসিপিআই-এর সঙ্গে হাত মেলান। গত কয়েক দিনে অনুব্রত মণ্ডল বা রবীন্দ্রনাথ ঘোষের মতো নেতাদের একাধিক মন্তব্যে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরোধী শিবির হিসেবে এই বিদ্রোহী অংশটি সাইক্লোনের মতো তৃণমূলের ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা।
এনসিপিআই সূত্রে আরও জানা গেছে, বাদল অধিবেশনের আগেই স্পিকারের কাছ থেকে চূড়ান্ত স্বীকৃতি পাওয়ার ব্যাপারে তাঁরা শতভাগ নিশ্চিত। সংসদের অন্দরে আলাদা ব্লক হিসেবে এনসিপিআই-এর আত্মপ্রকাশ তৃণমূলের জন্য এক গভীর সংকট তৈরি করবে। একদিকে নিজের দলের অন্দরে ভাঙন, অন্যদিকে সংসদের ফ্লোরে এই নতুন শিবিরের বিরোধিতায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার কতটা কোণঠাসা হয়, তা দেখার অপেক্ষায় ওয়াকিবহাল মহল।
দিল্লির রাজনীতিতে এনসিপিআই-এর এই উত্থান ও কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁদের ঘনিষ্ট যোগাযোগ স্পষ্ট বুঝিয়ে দিচ্ছে যে, আগামী দিনের সংসদীয় লড়াইয়ে তৃণমূলকে অনেক বেশি বেগ পেতে হবে। সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে এই নতুন ব্লক লোকসভায় কোন ইস্যুগুলোকে অগ্রাধিকার দেয় এবং কেন্দ্রের সঙ্গে তাঁদের কৌশলগত বোঝাপড়া কোন দিকে যায়, তা নিয়ে এখন থেকেই জল্পনা তুঙ্গে। সব মিলিয়ে ২০ জুলাইয়ের অধিবেশন সংসদীয় ইতিহাসের এক নতুন অধ্যায় হতে চলেছে।