“জাতীয় সুরক্ষাই আগে!”-কলকাতা বিমানবন্দরের মসজিদে নমাজ বন্ধ নিয়ে সাফ কথা মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দুর

কলকাতা বিমানবন্দরের অন্দরে অবস্থিত ১৩০ বছরের পুরনো গৌরীপুর জামা মসজিদ (বাঁকড়া মসজিদ)-এ নমাজ পড়া সাময়িকভাবে বন্ধ হওয়া নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চা। রানওয়ে সম্প্রসারণ এবং জাতীয় সুরক্ষার খাতিরে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ। এই পরিস্থিতিতে বিষয়টিকে কেন্দ্র করে সরব হয়েছেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
মুখ্যমন্ত্রীর অবস্থান: পূর্ব মেদিনীপুরের মেচেদায় এক সাংগঠনিক বৈঠকের পর সাংবাদিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, জাতীয় সুরক্ষা ও বিমানবন্দরের নিরাপত্তার সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না। তিনি বলেন, “এই বিমানবন্দরের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত স্পর্শকাতর। চীন ও বাংলাদেশ সীমান্তের নৈকট্যের কারণে এটি একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর। এখানে নিরাপত্তা নিয়ে কোনো ঝুঁকি নেওয়া যায় না।”
মুখ্যমন্ত্রী আরও যোগ করেন, “আমরা কাউকে ধর্ম পালনে বাধা দিচ্ছি না। তবে আইন মেনে চলতে হবে। আগে যারা বিজেপি ক্ষমতায় এলে মুসলমানদের তাড়ানোর কথা বলত, তারা এখন বুঝতে পারছে যে আইন মেনে চললে কোনো সমস্যা নেই। ভদ্র আচরণ ও আইন মানলে সবকিছুই সুন্দরভাবে চলবে।”
কেন এই পদক্ষেপ? বিমানবন্দর সূত্রে জানা গিয়েছে, গৌরীপুর জামা মসজিদটি বিমানবন্দরের দ্বিতীয় রানওয়ের অত্যন্ত কাছে অবস্থিত। বিমান চলাচল ও নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে:
মসজিদটির অবস্থানের কারণে দ্বিতীয় রানওয়ের থ্রেশহোল্ড সরাতে বাধ্য হয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এর ফলে কম দৃশ্যমানতায় বিমান নামানো এবং জরুরি অবতরণের ক্ষেত্রে নেভিগেশনাল জটিলতা তৈরি হচ্ছে।
সিআইএসএফ (CISF) দীর্ঘদিন ধরেই বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকায় সাধারণ মানুষের এই যাতায়াত নিয়ে নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকার কথা জানিয়ে আসছিল।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা: বর্তমানে সংস্কারের কাজের জন্য মসজিদটিতে তিন দিনের জন্য নমাজ স্থগিত রাখা হয়েছে। তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনিক স্তরে মসজিদটিকে বিমানবন্দরের সুরক্ষিত এলাকার বাইরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে আলোচনা চলছে। যদিও এ নিয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।