তারকেশ্বরে শ্রাবণী মেলায় নজিরবিহীন উদ্যোগ, হেলিকপ্টার থেকে পুষ্পবৃষ্টি, ১৫ কোটির সাজে সেজে উঠছে ধাম!

শ্রাবণী মেলা এবার পেল জাতীয় উৎসবের মর্যাদা। প্রতি বছর তারকেশ্বরে শ্রাবণ মাসে লক্ষাধিক পুণ্যার্থীর সমাগম হয়। এই জনস্রোতকে মাথায় রেখে এবারের মেলাকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছে রাজ্য প্রশাসন। পুণ্যার্থীদের পরিষেবা এবং আধ্যাত্মিক আবহ বজায় রাখতে সরকার একগুচ্ছ বড় উদ্যোগ ঘোষণা করেছে।

তারকেশ্বর ধামকে সাজিয়ে তুলতে ইতিমধ্যে সরকার ১৫ কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে। এই প্রসঙ্গে শুভেন্দু অধিকারী জানিয়েছেন, শ্রাবণ মাসে প্রচুর জলযাত্রী তারকেশ্বরে আসেন। ভারতের অন্যান্য রাজ্যে এই পরম্পরাকে যেভাবে সরকারি সহায়তা করা হয়, পশ্চিমবঙ্গও সেই পথেই হাঁটছে। এবার থেকে শেওড়াফুলি-তারকেশ্বর পথে প্রতি ৫ কিলোমিটার অন্তর নির্দিষ্ট ব্যবধানে সুসজ্জিত সেবাকেন্দ্র গড়ে তোলা হচ্ছে।

পুণ্যার্থীদের স্বাচ্ছন্দ্যের কথা মাথায় রেখে বৈদ্যুটির-তারকেশ্বর রাস্তার দু’ধারে চারটি বড় সেবা শিবির এবং মোট ১৬টি সহায়তা কেন্দ্র খোলা হচ্ছে। এই কেন্দ্রগুলিতে ২৪ ঘণ্টা চিকিৎসা ব্যবস্থা, পর্যাপ্ত পানীয় জল, ওআরএস এবং বিশ্রামের সমস্ত সুযোগ-সুবিধা থাকবে। এছাড়া নিমাই তীর্থ ঘাটসহ সমস্ত ঘাট নতুন করে সাজিয়ে তোলা হচ্ছে এবং গড়ে তোলা হচ্ছে বিশেষ সাংস্কৃতিক মঞ্চ। আবহাওয়া অনুকূল থাকলে শ্রাবণ মাসের প্রতি সোমবার আকাশ থেকে ভক্তদের ওপর হেলিকপ্টার দিয়ে পুষ্পবৃষ্টি করার পরিকল্পনাও নেওয়া হয়েছে। আগামী ১৮ই জুলাই সর্বসাধারণের জন্য মেলা খুলে দেওয়া হবে এবং ১৫ই জুলাই থেকে ১৯শে জুলাই পর্যন্ত চলবে বিশেষ যজ্ঞ।

তালিকায় রয়েছে জলপাইগুড়ির জল্পেশ মন্দির এবং ভুটান সীমান্তের জয়ন্তী এলাকাও। এই পবিত্র স্থানগুলিতেও পুলিশ সহায়তা ক্যাম্প, মেডিকেল ক্যাম্পসহ যাত্রীদের জন্য সবরকম বন্দোবস্ত থাকবে।

শুধু তারকেশ্বরই নয়, রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী উৎসব ও মন্দিরগুলোকে সংরক্ষণ করতেও বদ্ধপরিকর সরকার। শুভেন্দু অধিকারী ঘোষণা করেছেন, প্রাথমিকভাবে রাজ্যের ৮টি ঐতিহ্যবাহী রথযাত্রা কমিটিকে ৫ লক্ষ টাকা করে এককালীন অনুদান দেওয়া হচ্ছে। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই রথ ও মন্দিরগুলোর মেরামত ও সংরক্ষণের জন্য সরকার এই উদ্যোগ নিয়েছে। তাঁর কথায়, বর্তমান সরকার ঐতিহ্য ও উন্নয়নকে সমান গুরুত্ব দিয়ে এগিয়ে চলেছে। সব মিলিয়ে তারকেশ্বরসহ রাজ্যের অন্যান্য তীর্থক্ষেত্রগুলিতে এবারের শ্রাবণী মেলা এক নতুন মহিমা ও শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে পালিত হতে চলেছে। পুণ্যার্থীদের ভিড় ও নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে প্রশাসন এক বিশাল কর্মযজ্ঞের প্রস্তুতি নিয়েছে।