কিং-এর অপেক্ষায় কি জল? ২০২৬-এর বড়দিনে শাহরুখের মুক্তি কি অনিশ্চিত? জল্পনা তুঙ্গে!

২০২৩ সালে বক্স অফিসে ‘পাঠান’, ‘জওয়ান’ এবং ‘ডাঙ্কি’ দিয়ে অবিশ্বাস্য হ্যাট্রিক করার পর থেকেই শাহরুখ খানের পরবর্তী ছবি ‘কিং’ (King) নিয়ে ভক্তদের মধ্যে উন্মাদনার শেষ নেই। এই ছবিতে কিং খানের দুর্ধর্ষ লুক, মেয়ে সুহানা খানের অভিষেক এবং দীপিকা পাড়ুকোনের উপস্থিতি সিনেমাটিকে ঘিরে প্রত্যাশা আকাশছোঁয়া করেছে। চলতি বছরের অর্থাৎ ২০২৬ সালের বড়দিনেই এই মেগা প্রজেক্টের মুক্তির দিন নির্ধারিত ছিল। কিন্তু সম্প্রতি বলিউড পাড়ায় এমন একটি খবর ছড়িয়ে পড়েছে, যা রীতিমতো দুশ্চিন্তায় ফেলেছে শাহরুখ ভক্তদের।
চলচ্চিত্র সমালোচক কমল আর খান (KRK)-এর একটি সাম্প্রতিক টুইট ঘিরে শুরু হয়েছে প্রবল জল্পনা। কেআরকে-র দাবি অনুযায়ী, শাহরুখের এই বহুপ্রতীক্ষিত ছবি ২০২৬-এর ডিসেম্বরে মুক্তি পাওয়ার সম্ভাবনা একেবারেই ক্ষীণ। এই বিলম্বের পেছনে তিনি দুটি প্রধান কারণ উল্লেখ করেছেন—দীপিকা পাড়ুকোনের গর্ভাবস্থা এবং শাহরুখ খানের শারীরিক চোট।
কেআরকে তাঁর টুইটে লিখেছেন, “দীপিকা পাড়ুকোন বর্তমানে তাঁর গর্ভাবস্থার শেষ ত্রৈমাসিকে রয়েছেন এবং শাহরুখ খানও শারীরিক চোটের কারণে সুস্থ নন। ফলে আগামী কয়েক মাস এই তারকা জুটির পক্ষে শুটিংয়ে ফেরা কার্যত অসম্ভব।” ‘কিং’ একটি অ্যাকশন-নির্ভর ছবি, যেখানে বেশ কিছু হাই-ভোল্টেজ সিকোয়েন্সের শুটিং এখনও বাকি। অ্যাকশন দৃশ্যে শাহরুখের শারীরিক ফিটনেস অত্যন্ত জরুরি, তাই তাঁর চোট না সারা পর্যন্ত ক্যামেরার সামনে ফেরা সম্ভব হচ্ছে না বলে জানা যাচ্ছে।
তবে এই গুঞ্জন সামনে আসতেই সোশ্যাল মিডিয়ায় মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। শাহরুখ খান কিংবা তাঁর প্রযোজনা সংস্থা ‘রেড চিলিস এন্টারটেইনমেন্ট’-এর পক্ষ থেকে এখনও পর্যন্ত এই বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া হয়নি। অনেকেই মনে করছেন, কেআরকে-র টুইট অনেক সময়েই ভিত্তিহীন হয়, তাই অফিসিয়াল ঘোষণার আগে ভক্তদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিচ্ছেন অনেকে। শাহরুখের মতো তারকা অভিনীত ছবির পোস্ট-প্রোডাকশন এবং শুটিং শিডিউল অত্যন্ত সুপরিকল্পিত থাকে, তাই শেষ মুহূর্তে তারিখ পরিবর্তন হবে কি না, তা নিয়ে ধন্দ থেকেই যাচ্ছে।
এখন বড় প্রশ্ন হলো, ‘কিং’ কি সত্যিই ক্রিসমাসে সিনেমা হলে দরবার জমাতে পারবে? নাকি ভক্তদের অপেক্ষার প্রহর আরও দীর্ঘ হবে? সব জল্পনা এখন রেড চিলিসের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই। বড়দিনে শাহরুখের অনুপস্থিতি বক্স অফিসের জন্য একটি বড় ধাক্কা হতে পারে, কিন্তু তারকাদের শারীরিক সুস্থতাকে প্রাধান্য দিয়ে হয়তো ছবিটির মুক্তি পেছানোর সিদ্ধান্তই নিতে পারে প্রযোজনা সংস্থা।