ছোট ব্যবসায়ী ও হকারদের জন্য বড় সুখবর! বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারে আসছে বড় চমক

বাণিজ্যিক রান্নার গ্যাসের বাজারে বড়সড় পরিবর্তনের পথে হাঁটছে ভারতের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল বিপণনকারী সংস্থাগুলি—ইন্ডিয়ান অয়েল, ভারত পেট্রোলিয়াম এবং হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম। দীর্ঘদিনের প্রচলিত ১৯ কেজির বাণিজ্যিক গ্যাস সিলিন্ডারের পাশাপাশি এবার ১০ কেজির হালকা ওজনের সিলিন্ডার বাজারে আনার প্রস্তুতি চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। ছোট ব্যবসায়ী, রাস্তার হকার এবং ছোট রেস্তোরাঁ মালিকদের কথা মাথায় রেখেই এই যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
১০ কেজির সিলিন্ডার কেন দরকার?
টাইমস অফ ইন্ডিয়ার প্রতিবেদন অনুযায়ী, হাই-ডেনসিটি পলিথিন (HDPE) দিয়ে তৈরি এই কম্পোজিট সিলিন্ডারগুলো মূলত তাদের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যাদের ১৯ কেজির বিশাল সিলিন্ডার ব্যবহারের মতো জায়গা বা বাজেট নেই। শিক্ষার্থী, পরিযায়ী শ্রমিক, রাস্তার খাবার বিক্রেতা এবং ছোট ক্যাফে মালিকরা এই নতুন সিলিন্ডার থেকে সরাসরি উপকৃত হবেন। গ্যাস এজেন্সি এবং নির্বাচিত কিছু খুচরা আউটলেটের মাধ্যমে এই সিলিন্ডারগুলো বাণিজ্যিক এলপিজি মূল্যে পাওয়া যাবে।
হালকা ওজনের সিলিন্ডার ও সুবিধা
প্রচলিত স্টিলের সিলিন্ডারের তুলনায় এই ১০ কেজির সিলিন্ডারগুলো প্রায় ৫০ শতাংশ হালকা। এতে তিন-স্তরের উন্নত কম্পোজিট প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে, যা পরিবহন ও বহনের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক। বিশেষ করে বহুতল ভবনের দোকান বা ক্যাফেগুলোতে এই সিলিন্ডার নিয়ে ওঠা এখন অনেক বেশি সহজ হবে। এছাড়া, এই সিলিন্ডারের স্বচ্ছ আবরণ গ্রাহকদের আলাদা কোনো মিটার ছাড়াই সিলিন্ডারের ভেতর ঠিক কতটা গ্যাস অবশিষ্ট আছে, তা বাইরে থেকেই দেখার সুযোগ করে দেবে। এতে রিফিলের সময় নির্ধারণ করা ব্যবসায়ীদের জন্য অনেক সহজ হবে।
বর্তমান বাজার দর ও বিদ্যমান সিলিন্ডার
বর্তমানে ওএমসিগুলো ১৯ কেজি, ৫ কেজি এবং ২ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডার সরবরাহ করে। তবে গার্হস্থ্য গ্যাসের তুলনায় বাণিজ্যিক এলপিজি-র দাম অনেক বেশি। দিল্লিতে বর্তমানে ১৪.২ কেজির একটি গার্হস্থ্য সিলিন্ডারের দাম যেখানে ৯৪২ টাকা, সেখানে ১৯ কেজির বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ২,৯৩০ টাকা। অন্যদিকে, ৫ কেজির একটি বাণিজ্যিক সিলিন্ডারের দাম প্রায় ৮০৮.৫০ টাকা। ১০ কেজির এই নতুন সিলিন্ডার যুক্ত হলে ছোট ব্যবসায়ীদের সিলিন্ডার কেনার বা মজুত করার ঝামেলা ও ব্যয় অনেকটা নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ইতোমধ্যেই এইচপিসিএল-এর ‘এইচপি গ্যাস ওজাস’, ইন্ডিয়ানঅয়েল-এর ‘ইন্ডেন এক্সট্রালাইট’ এবং বিপিসিএল-এর ‘ভারতগ্যাস লাইট’-এর মতো ব্র্যান্ডের মাধ্যমে গার্হস্থ্য গ্রাহকদের জন্য এই কম্পোজিট সিলিন্ডারগুলো জনপ্রিয়তা পেয়েছে। বাণিজ্যিক ক্ষেত্রেও এই উদ্যোগ ছোট ব্যবসার প্রসারে নতুন দিগন্ত খুলে দেবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।