আইটিআর দাখিলে সামান্য ভুল করলেই বড় বিপদ, ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে জরিমানা!

আর্থিক ব্যবস্থাপনায় সামান্য অসতর্কতাও আপনার জন্য বড় ধরনের আইনি ও আর্থিক বিপর্যয় ডেকে আনতে পারে। আয়কর রিটার্ন (ITR) দাখিলের ক্ষেত্রে ভুল তথ্য দেওয়া বা আয় গোপন করা ভারতের আয়কর আইনের অধীনে একটি গুরুতর অপরাধ। আয়কর দপ্তরের কড়া নজরদারিতে আপনি যদি সঠিক তথ্য প্রদান না করেন, তবে আপনাকে গুণতে হতে পারে মোটা অঙ্কের জরিমানা।

২০০ শতাংশ পর্যন্ত জরিমানা: যা জানা জরুরি
আয়কর আইন অনুযায়ী, যদি কোনো করদাতা তার প্রকৃত আয়ের চেয়ে কম আয় দেখান বা ‘আন্ডার-রিপোর্টিং’ করেন, তবে ধারা ২৭০ক অনুযায়ী তাকে প্রদেয় করের ওপর ৫০ শতাংশ জরিমানা দিতে হবে। পরিস্থিতি আরও জটিল হবে যদি আয়কর দপ্তর এটি প্রমাণ করতে পারে যে, আপনি ইচ্ছাকৃতভাবে তথ্য গোপন বা ভুল তথ্য প্রদান (‘মিসরিপোর্টিং’) করেছেন। সেক্ষেত্রে জরিমানার পরিমাণ বেড়ে ২০০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে। অর্থাৎ, আপনাকে আসল করের দ্বিগুণ পরিমাণ অর্থ জরিমানা হিসেবে দিতে হতে পারে।

বিলম্বিত রিটার্নের মাশুল
অনেকেই নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে আইটিআর দাখিল করাকে গুরুত্ব দেন না, যা ভবিষ্যতে ব্যয়বহুল প্রমাণিত হয়। ধারা ২৩৪এফ অনুযায়ী, সময়মতো রিটার্ন জমা না দিলে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত বিলম্ব ফি ধার্য হতে পারে। তবে যাঁদের বার্ষিক আয় ৫ লক্ষ টাকার নিচে, তাদের জন্য এই ফি ১,০০০ টাকা। এছাড়া, টিডিএস বা টিসিএস রিটার্ন দাখিলে বিলম্ব হলে দৈনিক ২০০ টাকা জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় হিসাব রক্ষণাবেক্ষণে ব্যর্থ হলে ধারা ২৭১এ অনুযায়ী ২৫,০০০ টাকা জরিমানা হতে পারে। এমনকি অডিট করাতে ব্যর্থ হলে টার্নওভারের ০.৫% অথবা ১.৫ লক্ষ টাকা পর্যন্ত জরিমানা গুনতে হতে পারে।

প্রবাসী ভারতীয়দের জন্য বড় স্বস্তি
কঠোর কর আইনের মাঝেও বিদেশগামী ভারতীয় পেশাজীবীদের জন্য এল দারুণ সুসংবাদ। ১৫ই জুলাই থেকে কার্যকর হচ্ছে ভারত-যুক্তরাজ্য মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (FTA) ও দ্বৈত অবদান চুক্তি (DCC)। বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েল জানিয়েছেন, আগে স্বল্প মেয়াদে (২-৫ বছর) ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয়দের বেতনের প্রায় ২৫ শতাংশ ‘জাতীয় বীমা অবদান’ (NIC) হিসেবে কাটা হতো, যা তারা কখনোই ফিরে পেতেন না। কিন্তু নতুন এই চুক্তির ফলে, ব্রিটেনে কর্মরত ভারতীয়দের বেতনের এই ২৫ শতাংশ আর যুক্তরাজ্য সরকার কেটে রাখবে না।

এই টাকা সরাসরি ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্মীর প্রভিডেন্ট ফান্ড (PF) অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এই জমার ওপর কর্মীরা ৮.২৫% হারে করমুক্ত সুদ পাবেন। এই ঐতিহাসিক উদ্যোগ কেবল বিদেশ ফেরত ভারতীয়দের হাতে বর্তমান অর্থপ্রবাহ বাড়াবে না, বরং তাদের ভবিষ্যতের সামাজিক সুরক্ষা ও অবসরকালীন তহবিলের ভিত্তিও মজবুত করবে।