ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের আসল জন্মস্থান কোথায়? বেলজিয়াম না ফ্রান্স—রহস্যে মোড়া জনপ্রিয় স্ন্যাক্সের ইতিহাস

গরম, মুচমুচে আর সোনালি রঙের ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস দেখলেই জিভে জল আসা স্বাভাবিক। ছোট-বড় নির্বিশেষে এটি বিশ্বের অন্যতম প্রিয় স্ন্যাক্স। কিন্তু আমাদের প্রিয় এই খাবারের জন্ম ইতিহাস নিয়ে রয়েছে অদ্ভুত সব বিতর্ক। নামের সঙ্গে ‘ফ্রেঞ্চ’ বা ফরাসি শব্দ থাকলেও, বেলজিয়াম, ফ্রান্স এবং স্পেন—প্রতিটি দেশই এর আবিষ্কারের কৃতিত্ব দাবি করে আসছে। এই বিতর্ক এতটাই গভীর যে, একবার একটি শিল্প প্রদর্শনীতে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস চুরি হওয়ার পর বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছিল এবং জরিমানা দিতে হয়েছিল ২১ লক্ষ টাকা!

নামের রহস্য ও বেলজিয়ামের দাবি:
ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের জন্ম নিয়ে সবচেয়ে প্রচলিত গল্পটি বেলজিয়ামের। বলা হয়, মিউজ নদীর তীরে বসবাসকারী বাসিন্দারা আগে ছোট মাছ ভেজে খেতেন। শীতকালে নদী জমে গেলে মাছ পাওয়া দুষ্কর হয়ে পড়ত। তখন উপায়ান্তর না দেখে স্থানীয়রা আলুকে মাছের মতো লম্বা লম্বা টুকরো করে কেটে তেলে ভাজতে শুরু করেন। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকান সৈন্যরা বেলজিয়ামে গিয়ে এই খাবারটি প্রথমবার চেখে দেখেন। সেই সময় ওই অঞ্চলের বাসিন্দারা মূলত ফরাসি ভাষায় কথা বলতেন, আর সেই কারণেই আমেরিকান সৈন্যরা এর নাম দিয়ে দেন ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস’।

ফ্রান্স ও স্পেনের দাবি:
অন্যদিকে, ফরাসি ঐতিহাসিকদের জোরালো দাবি, ১৭৮০-র দশকেই প্যারিসের বিখ্যাত ‘পন্ট নিউফ’ ব্রিজের ওপর ফেরিওয়ালারা এই খাবার বিক্রি করত। তাই এর প্রকৃত জন্মভূমি ফ্রান্সই। আবার স্পেন দাবি করে, দক্ষিণ আমেরিকা থেকে প্রথম ইউরোপে আলু আনার কৃতিত্ব তাদের, তাই আলু ভাজার আদি প্রথাও তাদেরই সৃষ্টি। এই ত্রিদেশীয় দ্বন্দ্বের কারণে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের আসল জন্মস্থান আজও অমীমাংসিত।

আমেরিকায় প্রচলন:
আমেরিকায় ফ্রেঞ্চ ফ্রাইসের পরিচিতি আসে প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট টমাস জেফারসনের হাত ধরে। ১৭৮০-র দশকে ফ্রান্সে থাকাকালীন তিনি এই পদটি সম্পর্কে জানেন এবং নিজের রাঁধুনিকে দিয়ে আমেরিকায় এর প্রচলন করান। তবে সেই সময়কার ফ্রাইস আজকের মতো লম্বা ছিল না, বরং গোল বা লেবুর খোসার মতো আকৃতির ছিল। ১৯২০-র দশকে এসে এটি বর্তমানের ‘ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস’ নামে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পায়।

ভিন্ন স্বাদের মেলবন্ধন:
আজ ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস দেশভেদে ভিন্ন ভিন্ন স্বাদে জনপ্রিয়। আমেরিকানরা এটি খেতে ভালোবাসেন টমেটো কেচাপ দিয়ে, ফরাসিরা পছন্দ করেন সর্ষের পেস্ট, ব্রিটিশরা ভিনিগার এবং বেলজিয়ামের মানুষ মেয়োনিজের সঙ্গে এটি উপভোগ করেন। বিতর্কের ঊর্ধ্বে উঠে ফ্রেঞ্চ ফ্রাইস আজ বিশ্বের সর্বজনীন খাবারের তালিকায় নিজের আসন পাকা করে নিয়েছে।