যুদ্ধের দামামা! ইরান-মার্কিন সংঘাতের জেরে হু হু করে বাড়ছে তেলের দাম, সংকটে বিশ্ববাজার

ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার সামরিক সংঘাত নতুন মোড় নিয়েছে। আমেরিকার নতুন হামলার পাল্টা জবাবে ইরান এবার সামরিক অভিযান আরও বিস্তৃত করেছে। শুধুমাত্র আমেরিকার টার্গেটেই সীমাবদ্ধ না থেকে তেহরান এবার কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরশাহির মতো উপসাগরীয় দেশগুলিতেও হামলা শুরু করেছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহের প্রধান লাইফলাইন—হরমুজ প্রণালী—থাকার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে। অপরিশোধিত তেলের দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন করে অনিশ্চয়তার মেঘ ঘনিয়ে তুলেছে।
এই উত্তেজনার মধ্যেই ওমান উপকূলে সাইপ্রাসের পতাকা লাগানো একটি জাহাজে ইরান হামলা চালিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। হামলার তীব্রতায় জাহাজটিতে আগুন ধরে গেলে নাবিকরা প্রাণ বাঁচাতে জলে ঝাঁপ দেন। জাহাজে থাকা ১১ জনের মধ্যে ১০ জন ভারতীয় নাবিককে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও, একজন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এই ঘটনা সমুদ্রপথে নিরাপত্তার চরম অবনতিকে তুলে ধরছে।
বাজারের পরিসংখ্যান বলছে, সেপ্টেম্বরে সরবরাহের জন্য ব্রেন্ট ক্রুড (Brent Crude)-এর দাম ব্যারেল প্রতি ২.৪৬ ডলার বা ৩.২৪ শতাংশ বেড়ে ৭৮.৪৭ ডলারে পৌঁছেছে। একই চিত্র দেখা গেছে মার্কিন ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (WTI)-এর ক্ষেত্রেও, যার দাম ৩.৩০ শতাংশ বেড়ে ৭৩.৭৭ ডলারে দাঁড়িয়েছে। জাহাজ-ট্র্যাকিং সংস্থা ক্লেপলারের (Kpler) তথ্য অনুযায়ী, রবিবার হরমুজ প্রণালী দিয়ে মাত্র ৬টি জাহাজ চলাচল করেছে, যা গত পাঁচ সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন।
বিশ্বের মোট তেল ব্যবহারের প্রায় ২০ শতাংশই এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে পরিবাহিত হয়। এটি উপসাগরীয় দেশগুলোর অপরিশোধিত তেল ও এলএনজি (LNG) রফতানির প্রধান পথ। এই রুটে যেকোনো বিঘ্ন বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের সংকট সৃষ্টি করতে পারে। যদিও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন যে বাণিজ্য স্বাভাবিক রয়েছে, কিন্তু ইরানের দাবি তারা এই জলপথ বন্ধ করে দিয়েছে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে গত মাসে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন শান্তি চুক্তি এখন কার্যত অর্থহীন হয়ে পড়েছে। শান্তি আলোচনার পরিবর্তে সামরিক সংঘাতের এই নতুন পথ বিশ্বকে এক ভয়াবহ জ্বালানি সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটাই বড় প্রশ্ন।